খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি যুবদলের পদে, তিন দিনের মধ্যেই বিলুপ্ত করা হল কমিটি

০৩ মে ২০২৬, ০৩:২৬ PM , আপডেট: ০৩ মে ২০২৬, ০৩:২৮ PM
খিালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি হলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক

খিালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি হলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক © সংগৃহীত

ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন  বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। 

রবিবার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
 
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সুজনকে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ জন পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেন ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন, সহ-সভাপতি মোঃ সবুজ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল ও দপ্তর সম্পাদক ডালিম মজুমদার।

পরবর্তী কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সকল ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী জেলা যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিসমূহ বিলুপ্ত করা হলো।

একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোন ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌরসভার ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিতে ২০১৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। 

ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, ‘কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর সে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।’

ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন, যেখানে সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছেন। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ 

এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঘোষিত ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

রাজধানীতে সুইমিং পুলে নেমে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ০৩ মে ২০২৬
অনার্সের পর মাস্টার্সে ৩.৯৬ পেয়ে উত্তীর্ণ চাকসুর জিএস সাঈদ …
  • ০৩ মে ২০২৬
নেত্রকোনায় প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত 
  • ০৩ মে ২০২৬
আত্মহত্যার আগের রাতে সুদীপের কক্ষে কী হয়েছিল মিমোর সঙ্গে?
  • ০৩ মে ২০২৬
বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি, বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারের পর থান…
  • ০৩ মে ২০২৬
৮ বছর পর ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
  • ০৩ মে ২০২৬