আবু হানিফ © সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে কলুষিত করেছে এনসিপি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে আবু হানিফ লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে কলুষিত করেছে এনসিপি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এই ব্যানারে সংগঠিত হয়েছিল। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছিল, এবং এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার পতন ঘটে। ফলে ইতিহাসে এই ব্যানারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হয়ে থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আন্দোলনের পর একটি গোষ্ঠী এই ব্যানারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, সারাদেশে নেতৃত্ব দেওয়া মূল সংগঠকদের পাশ কাটিয়ে নিজেদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের দিয়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। এতে করে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে,যেমন সরকারি অফিসে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এসব কারণে এক পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও বিতর্ক থামেনি; বরং আরও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে থাকে নেতাদের ভূমিকা নিয়ে।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে, মূল সংগঠকদের উপেক্ষা করে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের দিয়ে সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে দলীয় স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে এনসিপি। যদিও দাবি করা হতো যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি স্বতন্ত্র ব্যানার, বাস্তবে সেটিকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে এনসিপি।
সর্বশেষ, গত ১৯ এপ্রিল সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে এনসিপিতে যোগ দেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, যারা এই সিদ্ধান্ত মানছেন না, তাদেরকে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে আবু হানিফ লেখেন, সব মিলিয়ে, একটি ঐতিহাসিক ও জনসমর্থিত সফল আন্দোলনের ব্যানার আজ বিতর্কিত শুধু এনসিপির রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কাজে ব্যবহার করায়।