পদত্যাগ করে জারা প্রমাণ করেন তিনি জামায়াতের এজেন্ট নন: সালেহীন

০২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ PM , আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ PM
ডা. তাসনিম জারা ও মুশফিক উস সালেহীন

ডা. তাসনিম জারা ও মুশফিক উস সালেহীন © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটগঠন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্দরে কি চলছিলো, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন। 

সোমবার (১ মে) নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে সালেহীন দাবি করেছেন, দলটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং পদত্যাগ করা নেত্রী তাসনিম জারার বিরুদ্ধে খোদ দলের ভেতরেই ‘জামায়াত সংশ্লিষ্টতার’ গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছিল।

সালেহীন লিখেছেন, মিডিয়ায় যে যাই বলুক না কেন, এনসিপির বড় নেতারা অনেক আগেই মনস্থির করেছিলেন যে নির্বাচন তারা জোটবদ্ধভাবেই করবেন। কিন্তু কাদের সাথে জোট হবে তা নিয়ে সবাই একমত হতে পারছিলেন না। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ইসি মিটিংয়ের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে যতোগুলো ইসি বা জেনারেল মিটিং হয়েছে, প্রতিটাতেই এককভাবে বা বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় জোট গঠন করে নির্বাচন করার পক্ষে মত বেশি ছিলো। এ সংক্রান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা মিটিং হয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট যেদিন প্রকাশিত হয়, সেদিন রাতে। সেই মিটিংয়ে মূল দল, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অফিসিয়ালি দলের বাইরে থাকা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও সেদিন উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি আরও লেখেন, মিটিংয়ে জোট নিয়ে সবাই যার যার প্রেফারেন্স খোলামেলাভাবে জানান। সেদিনও এককভাবে/তৃতীয় জোট গড়ে নির্বাচন করার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ১৮ জন মত দেই, এরপরে বিএনপির সাথে জোট করার পক্ষে ৮ জন আর জামাতের সাথে জোট করার পক্ষে ৭ জন মত দেন। অর্থাৎ, বিএনপি বা জামাতের সাথে জোট করার পক্ষে ছিলেন মোট ১৫ জন, আর এককভাবে বা তৃতীয় জোট গড়ে নির্বাচনের পক্ষে ছিলাম তারচেয়েও বেশি ১৮ জন। একক/তৃতীয় জোট করে নির্বাচনে গেলে অন্য দুই জোটের তুলনায় কম আসনে জেতা সম্ভব হবে, এই বাস্তবতা মেনেই আমরা সেই মত দিয়েছিলাম। কিন্তু জামাতের সাথে জোট করার পক্ষে ছিলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি। অতি গুরুত্বপূর্ণ যে দুইজন ব্যক্তি জামাতের সাথে জোটের পক্ষে ছিলেন না, তাদের একজনকে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দলে যোগ দিতে দেয়া হয় নাই, আরেকজন শেষমেশ আর দলেই যান নাই।

জাময়াত জোটে যুক্ত হওয়ায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা দলটির সাবেক এই নেতা লেখেন, মিটিংয়ের পর আমাদের কয়েকজনকে এসে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে - দল এককভাবে নির্বাচন করলে শুধু হাসনাত আব্দুল্লাহ আর তাসনিম জারা জিতবেন। এই দুইজন জিতবেন কারণ জোট না করলেও জামাত তাদের সাংগঠনিকভাবে ব্যাকআপ দিবে, মূলত জামাতের ভোটেই তারা জিতবে, এর বাইরে কেউ সংসদে যেতে পারবে না। আর একারণেই সেই দুইজন এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পরে দল চলে যাবে এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণে, আর এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণ মানে জামাতের নিয়ন্ত্রণে। তাই জামাতের হাতে দল চলে যাওয়া ঠেকাতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করা লাগবে। আসন কম দেয়া, চাঁদাবাজির কারণে নেতিবাচক ইমেজ ও সংস্কার বিরোধী হওয়ায় বিএনপির সাথে তো যাওয়া যাবে না, তাই জামাতের সাথে জোট করা ছাড়া উপায় নেই। 

তিনি আরও লিখেছেন, এনসিপির সেন্ট্রাল কমিটির সদস্যদের অনেকের মধ্যেই গুঞ্জন ছিলো তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ আসলে দলের ভেতরে জামাতেরই লোক, কিছু এক্স শিবিরই বলে বেড়াতেন যে খালেদ সাইফুল্লাহ অতীতে শিবির করেছেন। এবং দলের কিছু বড় নেতাই এসব ছড়ানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। আর সেই সাথে এনসিপিকে জামাতের দিকে নিয়ে যেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যে ব্যক্তি, তার সাথে এই দুইজনের ব্যক্তিগত সখ্যতাও এই ধারণা তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এসব প্রচারণায় আমরা অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অবশেষে জামাতের সাথে জোটের প্রতিবাদে পদত্যাগ করিয়া তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমাণ করিলেন যে তারা জামাতের এজেন্ট নন। 

মুশফিক সালেহীন লেখেন,  এনসিপি এমন একটা দল যেখানে নিজেদের পুরনো কোরামের বাইরে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। পুরো দলজুড়েই একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ ছড়িয়ে আছে। এমনকি কোরামের মধ্যেও কোরাম আছে, গ্রুপের মধ্যে গ্রুপ। জুলাই পদযাত্রায় দেখেছি মঞ্চে উঠা, বক্তৃতা দেয়া, হাততালি-স্লোগান পাওয়া নিয়ে একেকজনের ইনসিকিউরিটি আর জেলাসি।  

দল ছেড়ে আসার পর ভেতরের কাহিনী বলা থেকে বিরত থেকেছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, এসব বলতে হবে দেখে অনেক ইন্টারভিউর ইনভাইটেশন ফিরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি ন্যারেটিভের রাজনীতিতে সত্য-মিথ্যার মাঝে কোন পার্থক্য নাই, চালায় দিলেই চলে। নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতিতে ভদ্রতা যেহেতু দুর্বলতার নামান্তর, সেহেতু গল্প বলতে হবে। অনেক কিছু বলা বাকি।

বিদেশের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি: পররাষ্ট্র…
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ পদে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৩ সেপ…
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহে শিক্ষকের বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি জব্দ, …
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জবিতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেস কম্পিটিশন শুরু
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেরোবি ফটোগ্রাফিক ক্লাবের কমিটি প্রকাশ নেতৃত্বে জায়ীদ-নীলাদ…
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবুজ-সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানে ঢাবিতে ছাত্রদ…
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9