বিএনপির কার্যালয় খোলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে © টিডিসি
ময়মনসিংহের ভালুকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছেলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকা থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া নারিশের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত খোকা মিয়া উপজেলার জমিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার আব্দুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। অন্যদিকে ছেলে রানা মিয়া ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলমের সমর্থক। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচন শেষে বন্ধ থাকা নারিশের মোড়ের রাজনৈতিক কার্যালয় খুলে বসেন ছেলে রানা মিয়া।
বিষয়টি দেখে বাবা কার্যালয়টি বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ছেলে রানা মিয়া বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। তার সহযোগীরা খোকা মিয়ার সঙ্গে থাকা লোকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ খোকা মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী দ্বন্দ্বে আহত অবস্থায় খোকা মিয়া নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে কোপ ও গুলির চিহ্ন রয়েছে।
ভালুকা থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা-ছেলের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে খোকা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’