বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান © সংগৃহীত
সময়মতো বিলের কাগজপত্র না পাওয়ায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্যাংক রেজুলেশন বিল পাসের পর স্পিকারের কাছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা দুর্বল ছাত্র, এতগুলো ডকুমেন্ট আসার পরে আমাদের দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে কিছু না বুঝে হ্যাঁ বা না বলা—উভয়ই অপরাধ হবে, তাই আমরা চুপ থেকেছি।’
শফিকুর রহমান দাবি করেন, নিয়মানুযায়ী বিলের কাগজপত্র তিন দিন আগে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। অনেক সময় বিল পাসের ঠিক আগেই টেবিলে কাগজপত্র রাখা হয়। তিনি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেননি উল্লেখ করে সরকারি দলের সদস্যদের কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারা হয়তো সবাই অর্থনীতির ছাত্র এবং খুবই স্মার্ট, খুবই ট্যালেন্টেড স্টুডেন্ট, যে কারণে কাগজ দেখামাত্র ভেতরে কী আছে তারা বুঝে ফেলেছেন। আমরা বুঝতে পারি নাই।’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, কার্য-উপদেষ্টা কমিটি এবং বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এই আইনগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরাও ছিলেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে এই বিল পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিল পাসের পর এখন ‘কিছু বুঝিলাম না’ বলা ঠিক নয়। বিরোধীদের সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
তবে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ‘বিশেষ কমিটিতে এমন কোনও আলোচনা হয়নি যে সংসদ চলাকালীন বিলের কাগজ টেবিলে হাজির করা হবে।’
আইনমন্ত্রী এরপর সংবিধানের ৯৩ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সরকার আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটায়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো বিল আকারে পাস হয়েছে। যেগুলোর ওপর আলোচনার সুযোগ ছিল না, সেগুলো উপস্থাপন করা হয়নি।