ভেজা কণ্ঠে ব্যারিস্টার আরমান

‘যারা নিজেরা টর্চারের শিকার, তারা কীভাবে গুম আইন বাতিল করে’

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ PM
সংসদে কথা বলছেন ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান

সংসদে কথা বলছেন ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান © সংগৃহীত

যারা নিজেরা গুমের শিকার হয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারা কীভাবে গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান। অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী থাকলে আইন আকারে পাসের পর সংশোধন করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে কান্নাভেজা কণ্ঠে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন গুমের শিকার এই সংসদ সদস্য।

পয়েন্ট অব অর্ডারে ব্যারিস্টার আরমান বিন কাসেম প্রথমে গুম থাকাকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। এখানে আমার মত আরো শত শত লোককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আর ফিরে আসার সৌভাগ্য তাদের অনেকের হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিষয় আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমরা যারা গুমের শিকার, সে অন্ধকার ঘরে আমরা মৃত্যুর প্রহর গুণছিলাম। আমরা মনে করেছিলাম এই অন্ধকার ঘরে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে, হয়তো আমাদের হত্যা করবে, এখানে আমাদের মৃত্যু হবে। কথা বলার কেউ ছিল না আমাদের, কিট-পতঙ্গ, পিপড়া, টিকটিকির সাথে কথা বলতাম।

ব্যারিস্টার আরমান আরও বলেন, বুঝতে পারতাম না বাইরে দিন না রাত। মনে হত জীবন্ত কবর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনে হত মৃত্যু এর থেকে হাজার গুণ ভাল। মনে করতাম যে আজকে রাতে হয়তো হত্যা করা হবে। এভাবে মৃত্যুর প্রহ যখন গুণছিলাম। একদিন রাতে টেনে-হিঁচড়ে যখন আমাকে সেখান থেকে বের করছে, আমি ধরে নিয়েছি এখন আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। আমি সুরা ইয়াসিন পড়া শুরু করলাম যেন মৃত্যুটা সহজ হয়। পরে জানতে পারলাম কিছু বাচ্চা ছেলে-মেয়ে জীবন দিয়ে, চোখ হারিয়ে আমাদেরকে আবার দুনিয়া দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

সংসদকে মজলুমদের মিলনমেলা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, এখানে এমন একজন পাওয়া যাবে না যে গত ফ্যাসিস্ট আমলে জুলুমের শিকার হয়নি। আমি গুমের ভুক্তভোগী যারা ফিরে আসছে তাদের পক্ষ থেকে, গুমের ভক্তভোগী পরিবারদের পক্ষ থেকে একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমরা স্তম্ভিত হয়ে লক্ষ্য করছি আমাদের সাথে যা করা হয়েছে, এই জুলুম যাতে বাংলার মাটিতে আর কোনদিন না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য যে দুটি আইন করা হয়েছিল— গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন, বিশেষ কমিটি এই আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, কেমন করে, যে নিজে গুমের শিকার, ভুক্তভোগী, যে প্রধানমন্ত্রী নিজে টর্চারের শিকার, তারা কেমন করে এই আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়? ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন, যদি সরকার কোন পরিশোধিত করতে চায়, এই আইনটিকে আগে অনুমোদন দিয়ে আইনের রূপান্তরিত করুক, পরে সংশোধনী বিল এনে তাকে সংশোধিত করা হোক। যদি সেটা না করা হয়, ১২ তারিখ আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ গুমের কোন সংজ্ঞা থাকবে না।

এ সময় তার বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা গুম হয়েছেন, তারা কেউ আমার স্বজন, আমার ভাই, আমার বোন, আমার আত্মীয়, আমার প্রতিবেশী, আমার বাংলাদেশের মানুষ, আমার জিয়া পরিবারের সদস্যসহ বাংলাদেশের মানুষের তারা হৃদয়ের প্রতিবেশী। উনারা (বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য) যেটা নিয়ে হইচই করছেন, উনারা সেই আইনটা ভাল করে মনে হয় দেখেননি।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে অর্ডিনেন্সে, সেটা করলে গুমের শিকার সদস্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ আমরা একই সাথে আইসিটি আইন-১৯৭৩ সালে ক্রাইম এগেইন্স্ট হিউম্যানিটির মধ্যে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি, সেখানে বিচার হবে, তদন্ত হবে। একই সাথে এদিকে আবার গুম আইনে আমরা এটাকে ভিন্ন একটা তদন্তের কথা বলছি। ওখানে গুমের যারা অপরাধী, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গুমের যে আইনটার কথা বলা হয়েছে অর্ডিনেন্সে, সেখানে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন যেটা করা হয়েছে, ওই আইনটা আমি যখন সময় আসবে দেখাব। এই আইনটা যদি রাখা হয় এইভাবে, তাহলে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষজন অতিরিক্ত হয়রানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হবেন। এই আইনের তদন্তের নামে যে টাইম ফ্রেমটা দেওয়া হয়েছে— যেখানে আমরা বলেছি, বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করেছি, উনি হয়তো ছিলেন না, প্রপারলি আপরেইজড উইথ দ্যা ফ্যাক্ট না। আমরা বলছি এই দুটা আইনে আরো বেশি যুগোপযোগী, আরো বেশি জনকল্যাণমুখী, আরো বেশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই সেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তীতে অংশীজনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনব, যাতে করে অপরাধীরা কোনভাবেই ছাড়া না পায়।

আইনমন্ত্রী বলেন, কারণ ব্যারিস্টার আরমান আমার ভাই, আমার স্বজন, আমার সহকর্মী। উনি দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং এভাবে বাংলাদেশের ৭০০’র বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে গুমের শিকার হয়েছিলেন, মৃত্যুর প্রহর গুণেছিলেন প্রতিদিন, তাকে যেভাবে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে ডাম্পিং করা হয়েছিল, যেভাবে উনি বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেভাবে উনি বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন, এটা মনে করার কোন কারণ নাই— গুমের সাথে জড়িত যারা অপরাধী ছিলেন, তারা কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সে কারণেই আমরা বলেছি গুমের আইনে যে সাজা প্রেসক্রাইব করছেন, গুমের আইনে যে তদন্তের পদ্ধতির কথা বলেছেন, আর আইসিটি অ্যাক্টে যে ক্রাইম এগেইন্সট হিউম্যানিটির কথা বলেছেন, দুইটার মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক কোন অবস্থা বিরাজমান না থাকে সে কারণে এই আইনগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই করা দরকার। ঘুম আইনে আবার মানবাধিকার কমিশন আইনের তদন্ত সংস্থাকে রেফার করা হয়েছে। এ সবগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হবে। আমি আশা করব যাচাই-বাছাই যে প্রক্রিয়া হবে, সে প্রক্রিয়ায় ব্যারিস্টার আরমানসহ এই সেক্টরে যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন, তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন এবং তাদের মতামত দিবেন।

ঢাকা কলেজে মাথায় খসে পড়ল পলেস্তারা, গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তনে ক্ষোভ উদীচীর, পুনর্বহালের…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
অব্যাহতি পেয়েও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রভোস্টকে শুভেচ্ছা হামিম…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
সাড়া ফেলেছে তাসকিনের বিজ্ঞাপন 
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
আখতারের বক্তব্যের যে জবাব দিলেন আন্দালিব পার্থ
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
আনোয়ারায় অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৪ যুবক-যুবতী আটক
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬