ডা. আরিফুর রহমান © সংগৃহীত
সরকারি কর্মঘণ্টায় অফিসে উপস্থিত না থেকে ঢাকার বাইরে গিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম ডা. আরিফুর রহমান, তিনি অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার (এমবিডিসি) পদে কর্মরত রয়েছেন। তথ্য বলছে, প্রতি মঙ্গলবার সরকারি অফিস চলাকালীন তিনি লক্ষ্মীপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত চেম্বার করছেন।
ডা. আরিফুর রহমান অর্থোপেডিক্স, বাত ব্যথা, প্যারালাইসিস ও জেনারের সার্জারি বিশেষজ্ঞ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত থেকে লক্ষ্মীপুরের ‘সেইফ হসপিটাল’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখে আসছিলেন ডা. আরিফুর রহমান। সেখানে তার চেম্বারের নির্ধারিত সময় ছিল প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত—যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি অফিস সময়ের অন্তর্ভুক্ত।
পরবর্তীতে তিনি সেইফ হসপিটাল ছেড়ে লক্ষ্মীপুরেরই ‘নিউ আল রাজি মেডিক্যাল সার্ভিসেস’ নামের আরেকটি ক্লিনিকে চেম্বার স্থানান্তরিত করেন। সেখানেও প্রতি মঙ্গলবার একই সময়ে নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই ক্লিনিকটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. আরিফুর রহমান নিয়মিত চেম্বার করবেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাও দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবারও ক্লিনিকটিতে তার চেম্বার করার কথা রয়েছে।
অবশ্য অফিস ফাঁকি দেওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. আরিফুর রহমান। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, আমি ওখানে আগে চেম্বার করতাম, তবে এখন পুরোপুরি ঢাকায় থাকি। লক্ষ্মীপুরে ডা. মুহাম্মদ আরিফুর রহমান নামে অন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন। তিনি চেম্বার করে থাকতে পারেন।
তবে ডা. আরিফুর রহমানের এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডা. মুহাম্মদ আরিফুর রহমান মূলত একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান হলেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ। আর নিউ আল রাজি মেডিক্যাল সার্ভিসেস ও সেইফ হসপিটালের বিজ্ঞাপনী পোস্টারে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফুর রহমানের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে মঙ্গলবার সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে তার সিরিয়ালও মিলছে।

এর আগে চলতি বছর হজ মেডিকেল টিমে ডা. আরিফুর রহমানের প্রাথমিক নাম না থাকলেও পরবর্তীতে অন্য এক চিকিৎসককে বাদ দিয়ে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ডা. আরিফুর রহমান বিএনপিপন্থী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। ওই সময় ২৩ জন চিকিৎসক-নার্সকে বাদ দিয়ে আরিফুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজন যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছিল সে সময়ে।
অফিস সময়ে কর্মকর্তার ঢাকার বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।