মশিউর রহমান যাদু মিয়া © সংগৃহীত
দেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে খ্যাত রাজনৈতিক নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশের প্রগতিশীল, জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নায়ক, এক সময়ের মজলুম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ট সহচর পরবর্তিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভার সিনিয়র মন্ত্রী যাদু মিয়া ১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন রংপুর জেলা বর্তমানে নীলফামারী জেলার ডিমলার খগাখড়িবাড়ীর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওসমান গনি ও মা আবিউননেছা। ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।
৪০’র শেষের দিকে যাদু মিয়া ইয়াং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন। তিনি ৫০ দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৬০’র দশকের শেষের দিকে যাদু মিয়া মওলানা ভাসানীর গড়া রাজনৈতিক দল ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আইয়ুব বিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে তিনি জাতীয় পরিষদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন। পরবর্তিতে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের লায়েলপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও পরে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মওলানা ভাসানীর ইন্তেকালের পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ন্যাপের চেয়ারম্যান হিসাবে দলের প্রতীক 'ধাণের শীষ' জিয়াউর রহমান তথা বিএনপিকে প্রদান করেন।
কর্মসূচি: বাংলাদেশ ন্যাপ নীলফামারী (ডোমার-ডিমলা), রংপুর, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মরহুম যাদু মিয়া স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেছে।
এদিকে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নেতার অমলিন স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘দেশ-জাতি, গণতন্ত্রের স্বার্থে যাদু মিয়া যে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করেছিলেন আজকের প্রেক্ষাপটেও তা অত্যান্ত প্রাসঙ্গিক। জাতীয়তাবাদী ও ঐক্যের রাজনীতিতে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দক্ষিণ হস্ত হিসেবে যাদু মিয়ার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
বুধবার (১১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এসব কথা বলেন। নেতৃদ্বয় বলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে বাদ দিয়ে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি মেধাবী ও দূরদর্শী রাজনীতিক হিসেবেই পরিচিত। আজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন গণমানুষের মুক্তির জন্য। দেশ পরিচালনায় একটি অর্ন্তভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। প্রতিবাদে প্রতিরোধে ও সংগ্রামে তিনি কখনো পিছপা হননি।
তারা আরো বলেন, দেশের এই মুহুর্তে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগনের স্বার্থে বিভাজন নয়, প্রয়োজন ঐক্যের রাজনীতি। মওলানা ভাসানী-জিয়াউর রহমান-যাদু মিয়াদের স্মরণ করতে হবে আগামী বাংলাদেশকে রক্ষার জন্যই। তাদের প্রদর্শিত পথে দেশের পতাকা-মানচিত্র রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।