উপযুক্ত সম্মান ও লন্ডনভিত্তিক সিন্ডিকেট চান না ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্ব বিএনপি নেতারা

০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০ PM , আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৬ PM
বহির্বিশ্ব বিএনপি নেতারা

বহির্বিশ্ব বিএনপি নেতারা © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম-খুন, জেল-জুলুম, নির্যাতনের মধ্যদিয়ে দেশে একটি অবাধ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে বিনিময়ে দলটির নেতাকর্মীদের দিতে হয়েছে ব্যাপক মাশুল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা রেজিমে রাজপথে আন্দোলন করতে দলটির ৮শ‘র বেশি সাধারণ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে। খুন হয়েছে অনেকে। হাসিনার টানা প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসীবাদী শাসনামলে পুলিশের গুলিতে নিহতের পাশাপাশি ঘর-বাড়ি, স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তাদের পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। হামলা-মামলা হয়েছে কয়েক লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। 

অবশ্য দেশীয় রাজনীতিতে হাসিনা রেজিম শুরু হওয়ার আগ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের এই দলটির নেতাকর্মীদের উপর দুর্যোগ, নিপীড়নের শুরু। বাংলাদেশের রাজনীতি ‘ওয়ান ইলেভেন’ একটি বহুল আলোচিত-সমালোচিত চর্চা। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত বিশেষ সরকারের সময়কে দলটির অনেক নেতাকর্মী হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হিসেবে দাবি করেন। 

রাজনীতি নিষিদ্ধ, দলীয় কার্যালয় বন্ধ, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার জ্যেষ্ঠপুত্র দলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান এবং রাজনীতির বাইরে থাকা জিয়া-খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ দলের অধিকাংশ নেতারা দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে। দলটির অধিকাংশ সিনিয়র নেতারাই ছিলেন ‘সংষ্কারপন্থী’ হিসেবে মূল দলের বিরুদ্ধে। শুধু সংস্কারপন্থি হিসেবে নয়, এসব নেতারা দল থেকে জিয়া পরিবার বিশেষ করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ করেন। তাকে দলীয় প্রধান থেকে সরিয়ে আগের জাতীয় সংসদের মোট ১৩৭ জন সংসদ সদস্যদের নিয়ে দলকে বিভক্ত করেন। সেই কঠিন সময়টিতে রাজপথে গুটি কয়েক সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরা (এক সময় যারা দেশে ছাত্রদল, বিএনপি বা দলটির অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন) সেই সব প্রবাসী নেতাকর্মীরা দেশের বিরাজনীতীকরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। 

তারা বিদেশে তৎকালীন বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিরাজনীতীকরণ, দলকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টা, গণগ্রেফতার, জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। গড়ে তোলেন জনমত। উন্নত বিশ্ব হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী দেশগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সেই ‘বিশেষ সরকারে’র উপর চাপ সৃষ্টি করেন।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের কাছে জার্মান বিএনপি সভাপতির চিঠি

সেই সময়ের বিএনপির রাজনীতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সেই কঠিন মুহূর্তে বিএনপিকে রাজনীতিতে ফেরাতে ও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের মধ্যে জার্মান বিএনপির সভাপতি দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, নরওয়ে বিএনপির সভাপতি বাদল ভূইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি, জামান সরকার মনির, আমেরিকা বিএনপি সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, ফ্রান্স বিএনপির আব্দুল মালেক, সিরাজুল ইসলাম ও আহসানুল হক বুলু, কানাডা ফয়সল আহমদ চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি বাদরুর রহমান বাদল, জাপান বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাপান বিএনপি নেতা ড. শাকিলুর রহমান শাকিলসহ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ৫টি দেশে ও ইউরোপীয়ান বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী নেতারা ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। 

এসব নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত সরাসরি বিদেশ থেকে ‘টেলিকনফারেন্সে’র মাধ্যমে দিক নির্দেশনা গ্রহণ করেন। দলীয় প্রধান গ্রেফতার হওয়ার পর এত সীমাবদ্ধতার মধ্যে তৎকালীন মহাসচিব বিএনপির রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ব্যাপক কর্মসূচি চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে ‘বহির্বিশ্ব বিএনপি‘র তৎপরতায় সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। যদিও সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে হাসিনা ধীরে ধীরে দেশে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দেশের রাজনীতিতে ‘ফ্যাসিবাদ’ কায়েম হয়। 

বিএনপি নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছরে বিএনপি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকবার ভাঙন, ধকল, নির্যাতন-নিপীড়নের সম্মুখীন হলেও প্রথম সবচেয়ে বড় ঝড়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ‘ওয়ান ইলেভেন’ হিসেবে খ্যাত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত বিশেষ সরকারের সময়ে। ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের আমলে সদ্য ক্ষমতা ত্যাগ করা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ওই সময়ের প্রথম সারির প্রায় সকল নেতা ও সারাদেশের হাজার হাজার নেতাকর্মীও গ্রেফতার, নির্যাতনের মুখে পড়েন। 

খোদ সদ্য ক্ষমতা ত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার জ্যেষ্ঠ পুত্র দলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টহীন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোও কারা নির্যাতনের শিকার হন। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অসুস্থতার পরিমাণ এত প্রকট হয়েছিল যে, তাদের আদালতে আনা-নেয়া করা হত এ্যাম্বুলেন্সে করে ও হুইল চেয়ারে টেনে। অর্থাৎ সারাদেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জুলম-নির্যাতনে পর্যুদস্তু হয়ে পড়ে খোদ জিয়া পরিবারও। এক পর্যায়ে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। চিকিৎসার জন্য সেই বিদেশ যাত্রা থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারলেও তার ছোটভাই কোকো জীবন নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি। তিনি এসেছিলেন কফিনে করে, মৃত অবস্থায়।

তারেক রহমান

ওয়ান ইলেভেনের বিশেষ সরকারের সময় দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রমও অনেকদিন নিষিদ্ধ ছিল। ছিল দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ। অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল বিএনপি তথা তারেক রহমান কেন্দ্রীক সংবাদ প্রচারেও। নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির স্বপক্ষে তেমন কোনো ইতিবাচক সংবাদও প্রচার করা হত না। অনেক ঝুঁকি নিয়ে দু’একটি সংবাদ মাধ্যম কোনো সংবাদ প্রচার করলে বিশেষ মহল থেকে নানা হুমকি-ধমকি আসত। কিছু সাধারণ নেতাদের পাশাপাশি সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা রাখেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষ করে প্রবাসী শাখা বিএনপির নেতাকর্মীরা।      

গ্রেফতার হওয়ার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী নেতারা খালেদা জিয়া ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিয়মিত টেলিকনফারেন্স করে দিক-নির্দেশনা নিতেন। এরপর ‘বহির্বিশ্ব বিএনপি’র ব্যানারে তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন দাবিতে সারা বিশ্বে জনমত গড়ে তোলেন। প্রভাবশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। যেই নির্বাচনকে নিয়ে বিএনপির রয়েছে নানা অভিযোগ। সেই ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচনের মধ্যদিয়েই হাসিনা ক্ষমতায় জেঁকে বসে। যা ধীরে ধীরে দেশকে নিয়ে যায় দীর্ঘ ফ্যাসীবাদী শাসনের দিকে। 

এরপর ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে হাসিনা সরকারের পতনের পর নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গেল ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেন। সেই নির্বাচনে দীর্ঘ নিপীড়ন শেষে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই বিএনপি সরকার গঠনও করেছে। প্রবাসী নেতাদের মধ্যে কয়েকজনকে দল মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদেও এনেছে। আবার যারা মনোনয়ন পাননি তাদের কাউকে কাউকে ‘টেকনোক্রেট কোটা’য় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সম্মানজনক পদে বসানো হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বহির্বিশ্ব বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এসব পদ-পদবি বা উপর্যুক্ত সম্মান শুধু একদেশ অর্থাৎ ব্রিটেনের লন্ডনভিত্তিক হয়েছে। লন্ডনের নেতাদের নিয়ে তাদের আপত্তি নেই জানিয়ে বেশিরভাগ নেতারা দাবি জানান যে, সুদিনে অন্তত দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও দলের প্রতি আন্তরিকতা দেখে অন্যান্য দেশের প্রবাসী নেতাদেরও যথাযথ সম্মানটা যেন দেওয়া হয়।

বিএনপির লোগো

তারা বলেন, বিএনপির পক্ষে ভূমিকা রাখার কারণে তারা দীর্ঘদিন নির্যাতন সয়েছেন। বিরোধীমত দমনে হাসিনার হাতিয়ার ডিজিটাল অ্যাক্টের অপব্যবহার হয়েছে তাদের উপর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়ায় অনেকের নামে মামলা হয়েছে। কারাগারেও গেছেন। পাশাপাশি প্রবাসে বিএনপির রাজনীতিতে সরব ভূমিকা রাখার কারণে দেশে তাদের পরিবার-স্বজনদেরও গ্রেফতার, মামলা, নির্যাতন, গুমের শিকার হতে হয়েছে। 

জার্মান বিএনপির সভাপতি দেওয়ান শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা কোনো লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি করি না। আমরা চাই, বাংলাদেশ জনগণের জন্য একটি কল্যাণকর ও মানবিক রাষ্ট্র হবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। আইনসম্মতভাবে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সেটাই মূলত আমাদের চাওয়া। আমরা ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা বা পদ-পদবি আশাও করি না। শুধু চাই দল আমাদের যথাযথ সম্মানটুকু দেবে। 

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষার পর বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে বিশেষ করে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এখানে তাই ইচ্ছে করলেই তারেক রহমান কোনো ভুল করতে পারেন না। জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মূল্য দিয়ে, সম্মান দিয়ে তাকে দেশ গঠনে, দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। যাতে তার কোনো ভুলের কারণে হাসিনার মতো জনগণ আবার বিএনপিকে ছুড়ে না মারে। এতে দেশের জনগণ আবার সাফার করবে, তেমনি আমরা যারা প্রবাসে বসবাস করি, তারাও কিন্তু সাফারার হব। কারণ দেশের সঙ্গে আমাদের নাড়িপোতা। সেখানে আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশী থাকে। সো, আমি আবারও বলছি-তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনায় খুব হুঁশিয়ার ও সাবধান থাকতে হবে। কোনো ন্যূনতম ভুল করা যাবে না। 

দেওয়ান শফিক বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দলের প্রতি নিবেদিত হিসেবে ইতোমধ্যেই আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের দেশের যে তিনশটি আসনে সংসদ সদস্য আছে, তাদের প্রত্যেককে একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মধ্যে নিয়ে আসা। যেখানে ডিজিটালি তাদের (তিনশ সংসদ সদস্য) সব তথ্য আপডেট থাকবে। কেউ ইচ্ছে করলেই তা পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাদের বিষয়ে নিজেই আপডেটেড থাকবেন। তিনি তাদের সম্পর্কে সকল তথ্য সেখানে পাবেন, হোক তা নেতিবাচক বা ইতিবাচক। এতে করে কোনো সংসদ সদস্য ইচ্ছে করলেই কোনো অপকর্ম, দুর্নীতি করতে পারবে না। এতে জনগণের স্বার্থ সুসংহত হবে। অনেক ব্যয়বহুল এই সফ্‌টওয়্যারটি আমার জার্মানভিত্তিক কমপিউটার ফার্ম ‘সিএলএস কম্পিউটার ফার্মে’র মাধ্যমে আমি করে দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি।

বিএনপি

এক প্রশ্নের জবাবে দেওয়ান মাসুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পশ্চাৎপদ। প্রধানমন্ত্রী আমার এই প্রস্তাব আদৌ গ্রহণ করেছেন কিনা, তা এখনও আমি অবগত নই। 

জার্মান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০০৭ সাল জন্মের পর বিএনপির জন্য সবচেয়ে দুর্যোগ মুহূর্ত। সেই সময় বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, কোকোকেও কারাগারে নেয়া হয়। সেই দুর্যোগ মুহূর্তে আমরা একাধিকবার ম্যাডামের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসূচি গ্রহণ করি। ম্যাডাম গ্রেফতার হওয়ার পর বর্ষীয়ান নেতা আমাদের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করি। জার্মান পার্লামেন্টে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করি। এতে সেই বিশেষ সরকার ম্যাডামকে মুক্তি দিত বাধ্য হয়। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে বাধ্য হয়।  

তিনি বলেন, ওই সরকারের তাবেদার সিইসি শামসুর হুদা গংরা যেভাবে ইভিএমে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করে। আমরাই প্রথম জার্মানির বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেমিনার করে, সেই সময় জার্মান বিএনপি জার্মানির বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যে কীভাবে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল কারচুপি করা হয়। সেই সময়ে সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অন্য নেতারা ম্যাডামকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ইভিএমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যদিও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার হাসিনাকে ক্ষমতায় আনে।

রেজা বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো লাভবান হওয়ার আশা দলের কাছে চাই না। তবে, লন্ডনের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে যারা দীর্ঘ দেড়যুগেরও বেশি সময় নিজেদের শ্রম ঘাম অর্থের বিনিময়ে বিএনপিকে জনগণের দলে পরিণত করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরও যেন দল উপর্যুক্ত সম্মানটুকু দেয়; এই প্রত্যাশাটা অন্তত করতে পারি। 

মাসুদ রেজা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বক্তব্য দিতে চাই না। যারা কাজ করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তারপরও বলি, ওয়ান ইলেভেনের কঠিন মুহূর্তে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমানকে আমরা জোরালো কর্মসূচির জন্য অনুরোধ করলে তিনি বলেছিলেন, সাইফুর রহমান আমার খালু হয়, এই মুহূর্তে আমি সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি নিতে পারব না। এসব নেতারা সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। প্রবাসের রাজনীতি কি? প্রবাসে রাজনীতি হচ্ছে কূটনীতি নির্ভর। কারা কি কি কাজ করেছে, তা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে দৃশ্যমান। 

বাংলাদেশের রাজনীতি বা সরকারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে যেসব দেশের নেতা আমরা সবাই হাসিনার উদ্দেশ্যে মেমোরেন্ডাম নিয়ে যেতাম। নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে আমরা এসব বিষয়ভিত্তিক ইস্যুতে প্রমাণসহ বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও একদেশ থেকে আরেক দেশে উড়ে গিয়ে বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন ও সফল করেছি। আমরা চাই, দলের দুঃসময়ে যারা কাজ করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। 

জানতে চাইলে সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিএনপির কাছে কোনো পদ-পদবি চাই না। চাই শুধু উপর্যুক্ত সম্মান। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর রহমতে আমি আমাদের নেত্রীর স্নেহ পেয়েছি। জিয়া পরিবারের সান্নিধ্যে যেতে পেরেছি।

মুকিব বলেন, ম্যাডাম দীর্ঘ অনেক বছর আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করতে যখনই সৌদি আরব এসেছেন, তখনই তার সান্নিধ্য পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি। এবার ম্যাডামের ঐতিহাসিক জানাজায় যখন তারেক রহমান মানিক মিয়া এভিনিউতে যান, তখন তিনি আমাকে ওনার গাড়িতে ওনার পাশে বসিয়ে নিয়ে যান। এটা সম্মান। এই সম্মানটুকুই বিএনপির কাছে প্রত্যাশা। আর দীর্ঘ নিপীড়ন নির্যাতন ত্যাগ ও কর্মীদের জীবনের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তাই দলের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে থেকে দেশ পরিচালনা করে দীর্ঘদিন যেন বিএনপি জনগণ এবং দেশের সেবা করতে পারে।

কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে ভূমিকা রাখায় দেশে আমার বিরুদ্ধে দুইটি ডিজিটাল মামলা করেছিল হাসিনার লোকজন। মামলার কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর প্রবাস থেকে দেশে আসতে পারিনি। বাবা-মা, স্বজনদের দেখতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমার মেধাবী দুই ছোটভাই যার একজন মালয়েশিয়ার একটি বিখ্যাত ইউনিভার্সিটিতে পড়ত। তার নাম এমদাদুল হক। সে দেশে ফেরার সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাসিনার দোসর তৎকালীন কুখ্যাত পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুলের নেতৃত্বে আটক করা হয়। জঙ্গি স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। আরেক ছোটভাইকেও একইভাবে গ্রেফতার করা হয়, করা হয় নির্যাতন, হয়রানি।

সাজু বলেন, দুর্দিন কাটিয়ে আমার নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। দলের কাছে আমাদের চাওয়া উপযুক্ত সম্মান, যথাযথ মূল্যায়ন। প্রবাসে যারা থাকেন, তারা আসলে নিজের জন্য কোনো বিনিময় চান না, তারা দল ও দেশের প্রয়োজনে কাজ করার পাশাপাশি উপযুক্ত সম্মানটা চান। সেই সম্মানটা যদি বিএনপি আমাদের না দেয়, তা সত্যি খুব, খুবই কষ্টকর বিষয়।  

ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিবাদ’, আমরা এই কর্মসূচি নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। প্রতিবাদ জানিয়েছি। লন্ডনে যারা ছিলেন, তারাও কাজ করেছেন। কিন্তু শুধু লন্ডনভিত্তিক নেতাদের দলে পদ-পদবি দেওয়া হবে, সম্মানিত করা হবে এটা দেখে আমাদের দুঃখ পাওয়াটা কিন্তু স্বাভাবিক। কারণ এই দলের জন্য যেমন শ্রম দিয়েছি, তেমনি নিজেদের কষ্টার্জিত বিপুল অর্থও ব্যয় করেছি। দলীয় ফান্ডের পাশাপাশি দেশে নির্যাতিত নেতাকর্মীদেরও সহযোগিতা করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরে যান, আমিও সেদিন দীর্ঘ অনেক বছর পর দেশে গিয়েছিলাম। এরপর দেশে থেকে নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছি। প্রচুর অর্থ খরচ করেছি। অবশেষে দলও বিজয় পেয়েছে। 

জনি বলেন, আমরাতো দেশে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাইনি। বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজের ভালোলাগার জন্য নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছি। এরপর আশা করেছিলাম সরকার গঠনের শপথ দল আমাদের আমন্ত্রণ জানাবে। কিন্তু তা হয়নি। নিজে লবিং করে, কষ্ট করে কার্ড ম্যানেজ করেছি। অথচ লন্ডনে জনৈক কামাল উদ্দিনকে সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে কামাল অন্তত ৩০ জনকে পাশ দিয়েছে। আমাদের নেতার সঙ্গেও সব সময় তাকে দেখা যাচ্ছে। সচিবালয়েও তাকে দেখা যাচ্ছে। সে নাকি লন্ডনে জিয়া ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে আছে বলে শুনেছি। আজ পর্যন্ত তাকে কোথাও দেখি নাই, দলের কোনো কর্মকাণ্ডে। গরম, ঠান্ডায় রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। কোনোদিন তাকে বা তাদের সিন্ডিকেটকে দেখি নাই। সেই কারণে মনে হয়, লন্ডনের বাইরে আমরা যারা আছি, তারা রীতিমতো বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা চাইব খুব সুন্দরভাবে সিন্ডিকেটমুক্ত হয়ে সুষ্ঠু প্ল্যান নিয়ে তিনি দেশ গঠনের কাজ করবেন। আমরা আগের মতোই তাকে সহযোগিতা করে যাব। 

অঘোষিত ‘কোয়ার্টার ফাইনালে’ বড় সংগ্রহ উইন্ডিজের
  • ০১ মার্চ ২০২৬
বিপন্ন মানবতা ও বিধ্বংসী যুদ্ধ
  • ০১ মার্চ ২০২৬
বন্ধ হরমুজ প্রণালী, প্রথম দিনে কত শতাংশ বাড়ল তেলের দাম?
  • ০১ মার্চ ২০২৬
চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যু, ১০ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত
  • ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের হামলা: ৩ মার্কিন সেনা নিহত
  • ০১ মার্চ ২০২৬
রণতরী আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
  • ০১ মার্চ ২০২৬