এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা © টিডিসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোন স্পষ্ট বক্তব্য আমরা পাইনি। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে টাইমলাইনটা দেশের জনগণকে দিবে। যেহেতু কয়েকটি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, এই পুরো টাইমলাইনটা, রূপরেখাটা আমরা দাবি করছি। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এসব কথা বলেন তিনি।
সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রেও সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্টভাবে মেয়াদ উল্লেখ করা নেই। সেখানে প্রজ্ঞাপনটি দেখে মনে হচ্ছে যে আমৃত্যু হয়তো তারা প্রশাসক থাকবেন, এভাবেই সেখানে লেখা আছে। অথচ সরকারি যেকোনো যুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কিন্তু সময়ের সীমাটা উল্লেখ করা।
তিনি আরও বলেন, গত দুইদিন যাবৎ এক ধরনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের মাধ্যমে এই যে বিভিন্ন জায়গায় রেড দিয়ে সাধারণ জনগণকে এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সরকার এটার মাধ্যমে জনগণকে এক ধরনের ভয়ের মধ্যে আনতে চাচ্ছে। একটা ভয়ের মেসেজিং তারা করতে চাচ্ছে। আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাবো, জনগণকে বিভিন্ন রেডের নামে হয়রানি করা এবং এই সাংবাদিকদের উপর হামলা, সাধারণ জনগণের উপর হামলা, মারধর অকারণে এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমরা জানি যে প্রত্যেকটি থানায় কিন্তু ইনফরমেশন আছে যে কারা মাদকের কারবারি করে, কারা চুরি করে, কারা ছিনতাই করে। স্পেসিফিকলি সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। সেটা এক ধরনের আইওয়াশ হচ্ছে। মূল জায়গায় কাজ না করে জনগণকে ভয় দেখানোর এক ধরনের চেষ্টা হচ্ছে।
এসময় সরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, এখন আন্দোলন করা যাবে না, রাস্তা অবরোধ করা যাবে না। আমরা দেখেছি যে অন্তবর্তিকালীন সরকারের সময় অনেক অযৌক্তিক এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কারণেও রাস্তা অবরোধ হয়েছে, আমরা সেটাকে অবশ্যই সমর্থন করি না। আমরা মনে করি যেহেতু একটি নতুন সরকার গঠন হয়েছে তাদেরকে তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে এতটুকু সহযোগিতা জনগণের পক্ষ থেকে করা উচিত। একই সাথে কারো যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করার, কথা বলার অধিকারকেও কোনভাবেই যেন হ্যাম্পার করা না হয়, কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন সেটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।