গৃহকর্মী নির্যাতন
রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান আদালতে হাজির করা হয় © টিডিসি
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান প্রথমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। পরে অস্বীকৃতিতে জানালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান এবং তার বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া।
আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের খাস কামরায় নেয়া হয় দুইজনকে। সুফিয়া বেগম জবানবন্দি দিলেও অস্বীকৃতি জানান সাফিকুর রহমান। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে দুই জনের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আসাসিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে। আসামিরা মামলার ঘটনা সংক্রান্তে স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন।
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গত বৃহস্পতিবার রুপালী খাতুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোলাম মোস্তফার মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।
মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি। মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’। পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।