বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান © টিডিসি ফটো
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ১২৭টি অভিযোগ তুলে ধরেছে বিএনপি। বুধবার রাতে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান এসব অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেসব অনিয়ম ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য তাদের কাছে এসেছে, তাতে তারা হতাশ ও মর্মাহত।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বহু বছর পর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের জন্য আমরা অনেক লড়াই করেছি। আমাদের বহু সাথি জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে আমাদের সাথিরা-সন্তানেরাও জীবন দিয়েছে। সেই নির্বাচন আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে। আমরা খুব আন্তরিকভাবে আশা করছিলাম, যারা এ লড়াইয়ে যুক্ত ছিলাম, নির্বাচনে মূলত তারাই অংশগ্রহণ করছে। ফলে আমাদের সাথিদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে, আন্তরিকতার সঙ্গে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ নির্বাচনে যুক্ত থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা তো সবারই থাকে; কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অনৈতিক পথ গ্রহণ করা, বেআইনি পথ গ্রহণ করা, এটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে সারা দিনে যেসব তথ্য-উপাত্ত আমরা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই মর্মাহত। প্রায় ১২৭টি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এর বাইরে আরও আছে, সবগুলো আমরা দেখতেও পারিনি। এগুলো আমাদের হতাশ করে।’
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা তাঁর ব্যবসার টাকা। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবসায়ী নন। তাঁর ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক উপার্জন চার লাখ টাকার কিছু বেশি। নীতিকথা ও সৎ কথা যাঁরা সব সময় বলেন, তাঁদের দলের নেতার এমন আচরণ দুঃখজনক।’
নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পাঁচ লাখ কেন, পাঁচ কোটি টাকা বহন করাও কোনো ইস্যু না—এমন বক্তব্য মিসকোট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিদলের কাছে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। গণমাধ্যমেও এসব কথা বলেছেন তিনি।’ পরে ইসি সচিবের পক্ষ থেকে মিসকোটের দাবি তোলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুরে সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ এক জামায়াত নেতা আটক হয়েছেন এবং তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সূত্রাপুরে ভোট কেনার সময় এক জামায়াত নেতাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। নির্বাচনের একদিন আগে টাকাসহ আটক হওয়ার ঘটনাকে জামায়াত ষড়যন্ত্র বলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ভোটারদের টাকা বিতরণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ এবং বর্তমান এনসিপি নেতা ভোটারদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। জনগণ তা প্রতিহত করেছে।’
নারায়ণগঞ্জে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে আটক করার কথাও জানান তিনি। তার দাবি, ওই নেতার স্ত্রী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ‘স্বামী জামায়াত নেতা। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারছিলেন, পরে প্রিসাইডিং অফিসার গ্রেফতার করেন,’ বলেন নজরুল ইসলাম খান।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এ্যানিকে ঘিরে ছড়ানো টাকার তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ্যানির ১৩০টি কেন্দ্রে ৮০৭টি বুথে এজেন্টের কাছে প্রস্তুতি থাকতে হয়। সে পরিমাণ টাকা রাখতে হয়। ১৫ লাখ টাকা ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য। কিন্তু একটি বিশেষ দল খবর ছড়িয়েছে, ৮০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। একজন ইউটিউবার বলছেন, এ্যানির গাড়ি থেকে ২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।’
ফেনীর ছাগলনাইয়া দক্ষিণ সতের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের দায়ে ১৩ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া ১২৭টি অভিযোগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।