রয়টার্সের প্রতিবেদন, ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান’

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৬ PM , আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ PM
নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান।

নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান। © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ব-নির্বাসন থেকে ফিরে নিজের বাবা ও মায়ের মতোই সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন ৬০ বছর বয়সী এই নেতা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশক লন্ডনে স্ব-নির্বাসন থেকে ফিরে তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি জনমত জরিপগুলি সত্য হয়, তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষীর ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে তার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চিরশত্রু, আওয়ামী লীগের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎখাত হন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পরে গত ক্রিসমাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন, তখন বীরের মতো তাকে স্বাগত জানায় বিএনপি।

নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত হাসিনা এবং তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন, অন্যদিকে তারেক রহমানের বাবা ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে হত্যার আগে দেশ শাসন করেছিলেন। তারেক রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে দেশকে কোনও একক শক্তির সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ না করে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে হাসিনা নয়াদিল্লির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। 

তারেক রহমান তার দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারের ফাঁকে বলেন, আমরা অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, আমি জানি না। এ সময় তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও জানান তারেক রহমান। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় থেকে এখনকার তারেক রহমান অনেক বেশি পরিণত। যদিও তিনি কখনো  সরকারি পদে ছিলেন না, তবুও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রায়শই তার শাসনামলে সমান্তরাল ক্ষমতা কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, "প্রতিশোধ কারো জন্য কী আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে এই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশে আমাদের যা প্রয়োজন তা হল, শান্তি ও স্থিতিশীলতা।"

প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তারেক লক্ষণীয়ভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আক্রমণাত্বকবক্তব্য এড়িয়ে গেছেন। যার পরিবর্তে সংযম ও একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি  "রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানা" পুনরুদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলেছেন। এগুলো এমন বার্তা যা নতুন করে শুরু করার জন্য আগ্রহী বিএনপি সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে। 

বিএনপির ভেতরে ও দলের উপর তারেক রহমানের প্রভাব বেশ শক্তিশালী। দলের অভ্যন্তরীণ নেতাকর্মীরা বলছেন যে তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল এবং জোট আলোচনা, একসময় দূর থেকে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখন তা সরাসরি তদারকি করছেন। তিনি বংশীয় রাজনীতির ফসল হতে পারেন, কিন্তু তারেক রহমান বলেছেন যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং টিকিয়ে রাখা তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে।

তার কথায়, "গণতন্ত্র অনুশীলনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ এবং পুনর্গঠন করতে পারি। আমরা যদি গণতন্ত্র অনুশীলন করি, তাহলে আমরা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তাই আমরা গণতন্ত্র অনুশীলন করতে চাই, আমরা আমাদের দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।"

পাহাড়ে শিক্ষা বিস্তারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: অসচ্ছল শিক্ষার্থ…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রত্যাশা ছিল শিক্ষার্থীরা ৮০ শতাংশ নম্বর পাবে, বাস্তবে তিন…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সব নয়, ৫ বিষয়ে বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশ
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যমুনা ব্যাংকে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন শেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খাগড়াছড়িতে ১২১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সর্বাত্মক প্রস্তুতি আইনশ…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াত প্রার্থী অবরুদ্ধ, অভিযোগ যুবদলের বি…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!