দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে দুজন আটকের জেরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে © সংগৃহীত
বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে আটক করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখ গুরুতর জখম হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ভাই রবিউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতা–কর্মীরা। পরে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন : জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় আমির, ১৮ দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জামায়াত
আটক দুজনকে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দিবাগত রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করা হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে আটকে রাখা দাঁড়িপাল্লার কর্মী বেলাল ও ফারুককে উদ্ধার করে নিয়ে যান তাদের সমর্থকেরা।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় বাবা–মাসহ বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা আমার বাবার চোখে আঘাত করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িপাল্লার কয়েক শ সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ ধানের শীষের কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। তাঁরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে টাকাসহ আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন : চাদর মুড়ি দিয়ে জামায়াত আমিরের নির্বাচনি বুথে আগুন, ধরা পড়ল সিসি ফুটেজে
অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, ‘টাকা বিতরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণ করতে গেলে আবদুল মজিদ ও ফারুক নামের দুই কর্মীকে আটক করে মারধর করা হয় এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে দাঁড়িপাল্লার কর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে গেলে ধানের শীষের সমর্থকেরা হামলা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে রাতেই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধানের শীষের কর্মীরা জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর হামলা করেছেন।’
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন, এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর বা সংঘর্ষ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।