বগুড়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান © টিডিসি ফটো
জাতীয় নির্বাচনে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বগুড়ার সন্তান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে নিজের জন্য এবং বগুড়ার সব আসনের প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাচনী জনসমাবেশে বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া- ৩ আসনের প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া -৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিলটনকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজ এই মুহূর্তে আমার আপনাদেরকে কিছু দেবার নাই। এই মুহূর্তে আপনাদের (বগুড়াবাসী) কাছে শুধু আমার চাইবার আছে। ঘরের মানুষ এই যে, আমি এত রাত্রে যে মিটিং করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এ যে কাজ করছিৃ আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন আমি কিন্তু পারতাম না। উনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি।
ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে যদি মানসিকভাবে শক্তি সমর্থন আপনারা দেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটা সুন্দর ভালো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো।
কাজেই আমি আপনাদের কাছে চাইতে এসেছি আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা, আপনাদের দোয়া আপনাদের কাছ থেকে আমি চাইতে এসেছি।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদেরই আরেক সন্তান সবসময় বলতেনৃ তার নাম হচ্ছে শহীদ রহমান উনি বলতেন, দেশকে গড়তে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কাজ না করলে আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারবো না। কাজেই উনার কথার সাথে মিল রেখে আমি একটা কথা বলি সবসময় প্রত্যেক জায়গায় বলেছি, সেই কথাটা হচ্ছে, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, আপনাদের দোয়া চাইতে এসেছি, দোয়া করবেন এবং আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বগুড়া জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, গ্রাম, উপজেলা, পৌরসভার প্রত্যেকটি মানুষের কাছে আমি দোয়া চাই। যাতে আপনারা আপনাদের এই সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে যাতে আপনারা গর্ব করতে পারেন, সেই দোয়া আমাকে করবেন। আমাকে নিয়ে যাতে আপনারা অহংকার করতে পারেন সেই দোয়া করবেন।
নওগাঁ থেকে সকাল ৭টার দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসময় পথে পথে অপেক্ষমান নেতা-কর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময়ে লেগে যায় তার।
বগুড়া শহরে নিজের নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে তারেক রহমান আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে পৌঁছান। এই সময়ে পুরো সমাবেশ স্থল স্বাগত স্লোগানে সরব হয়ে উঠে।
তারেক রহমান মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহে মাগফেরাত হয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় এই নির্বাচনী জনসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের থেকে নেতা-কর্মীরা এসেছেন। তাদের কেউ কেউ বাদ্যযন্ত্র হাতে জনসভায় উপস্থিত হতে দেখা গেছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম বগুড়া সফরে গিয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এক শোকসভায় যোগ দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ বগুড়া সফর স্থগিত করেন তারেক রহমান।
‘বগুড়াকে বিতর্কিত করা যাবে না’
তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ চায় তো, সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সাথে সাথে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে পারবেন ইনশাল্লাহ।
আর চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। যেহেতু আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না যে অন্য কেউ আমাদেরকে কোন বিতর্কিত অবস্থান ফেলুক যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে। ‘আমরা বগুড়ার বলে পাচ্ছি’ না বলে আমরা কি চাই এরকম বলুক মানুষ।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের বগুড়ার নাম খারাপ করতে চাই না। সেইজন্যই বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে।
‘নিজের ঘরে ফেরার শুকরিয়া’
তারেক রহমান বলেন, কেমন আছেন আপনারা সবাই? আমি প্রথমেই আজকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই। কারণ, আজকে প্রায় ১৯ বছর পরে আল্লাহ আমাকে আবার তৌফিক দিয়েছেন নিজের ভূমিতে ফিরে আসার। প্রিয় বগুড়াবাসী নিজের ঘরে এসে কি বলব? আসলে আমি নিজেও একটু তাল হারিয়ে ফেলেছি, নিজেও অনেকটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি। এখানে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা, কিন্তু কি বক্তব্য রাখবো আমি নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। ঘরের মানুষের কাছে তো বলবার কিছু নেই। আছে কিছু ঘরের মানুষের কাছে বলবার?
২০০১-২০০৫ সালে বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যেই কাজগুলো করা দরকার ছিল আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজগুলো কম বেশি করার জন্য। হয়তো আমরা ১০০% সাকসেসফুল হইনি। কিন্তু কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন কানুন ও রীতিনীতির মধ্য থেকে। যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি, বনানী মাটিডালি রাস্তায় বলুন, চওড়া রাস্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, গ্যাসের লাইন, এরকম আরো বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ যা যা মানুষের প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করেছি। বগুড়া আমার কাছে একটি মডেল জেলার মত ছিলো। কারণ আমি সবসময় চিন্তা করতাম যে, যদি আল্লাহ সুযোগ দেয় তাহলে ৬৩টি জেলাকেও বগুড়ার মতো সাজাবো।
তারেক বলেন, এই নির্বাচনটির ব্যাপারে আমাদেরকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। কারণ এই নির্বাচন আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিবে যে আগামী দিনে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত ,কাঙ্খিত লক্ষ্যে দেশকে নিয়ে যেতে চাই অবশ্যই তাহলে আমাদেরকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে এবং তার জন্য ১২ তারিখের নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা সভাপতি রেজাউল করীম বাদশার সভাপতিত্বে নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন।
উত্তরাঞ্চল তিনদিনের সফরের দুপুরে তারেক রহমান ঢাকা থেকে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছান। রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এবং নওগাঁ এটিম মাঠে দুইটি নির্বাচনী জনসভা করে রাতে বগুড়া যান তিনি। রাতে বগুড়ার নাজ হোটেলে রাত্রিযাপন করেন।
আজ শুক্রবার বিকালে সড়কপথে রংপুরে পীরগঞ্জে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।