নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম © সংগৃহীত
জামিনে মুক্তি পাওয়ার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ চাওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।
এর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার পর বাগেরহাটে পৌঁছান সাদ্দাম। জামিনে মুক্তি পেয়ে বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে সাদ্দাম বলেন, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে, যে যদি, বাগেরহাট থাকতে হয়, ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারাগারে ঢোকার পর থেকে, আগের থেকে আমার বাগেরহাটের সংসদ সদস্য তন্ময় ভাই (বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়) আমার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। জেলে আমার পিসির টাকা, জামিনের টাকা, সম্পূর্ণ আমার ভাই...।’
নিজেকে ‘নির্দোষ’ এবং রাজনৈতিক বন্দি’ দাবি করে সাদ্দাম বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনেক হতাশাগ্রস্থ ছিল। আমাকে তিনটে মাস সেলে রাখা হয়েছে, সেল বন্দী।’
তবে কারা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ‘ওই বন্দি শুরু থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। বিভিন্ন জনকে গালাগাল এমনকি মারধরও করেছে। নিরাপত্তার জন্য তাকে সেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চলাচলটা সংরক্ষিত থাকে। সেল কোন শাস্তির জায়গা না।’
সাদ্দামের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ উল্লেখ করে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, ‘তার আচরণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানান্তর করতে পারে না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় গত বছরের ১২ এপ্রিল তিনি একজন সেল ইনচার্জকে (বাদশা মিয়) হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন। ৬ জুলাই এক বন্দিকে মারধর করেন।