ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির © সংগৃহীত
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা দেওয়ায় পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরকে শোকজ করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে প্রার্থীর পক্ষে একাধিক লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে। করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় (৬×৩ ফুট) ফেস্টুন স্থাপন এবং সেগুলো অপসারণের সময় প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা প্রদান ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ফেসবুক আইডি দাখিল না করা এবং গভীর রাতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েতের বিষয়টিকেও আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে একই দিন নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রার্থী সারজিস আলম তার নির্বাচনী জোট প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন। অথচ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজ দলীয় প্রধানের ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করায় আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়, যা আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩(ক) লঙ্ঘনের শামিল। একই সঙ্গে ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বিধি ১৬(ক)-এর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, উভয় প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।