জেলা রিটার্নিং অফিসারের প্রতীক বরাদ্ধ © সংগৃহীত
যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকা ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন।
প্রতীক বরাদ্দের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই জেলায় নির্বাচনের চূড়ান্ত ডামাডোল শুরু হলো এবং বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার জন্য ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম-কানুনের আওতায় থাকতে হবে।’ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ মোট ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আসনভিত্তিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, যশোর-১ (শার্শা) আসনে লড়ছেন ৪ জন প্রার্থী। যেখানে মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী) পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, মো. নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি) ধানের শীষ এবং মো. বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৮ জন। এখানে ধানের শীষ পেয়েছেন মোছা. সাবিরা সুলতানা, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছেন মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ এবং হাতপাখা পেয়েছেন মো. ইদ্রিস আলী। এছাড়া মো. ইমরান খান (বাসদ) মই, মো. শামসুল হক (বিএনএফ) টেলিভিশন এবং রিপন মাহমুদ (এবি পার্টি) ঈগল প্রতীক পেয়েছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মো. জহুরুল ইসলাম ঘোড়া ও মো. মেহেদী হাসান ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন, যদিও জহুরুল ইসলাম আগে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আইনি কাগজপত্র জমা দেননি।
যশোর-৩ (সদর) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি) ধানের শীষ, মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা, মো. আব্দুল কাদের (জামায়াত) দাঁড়িপাল্লা, মো. খবির গাজী (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, মো. নিজামুদ্দিন অমিত (জাগপা) চশমা এবং মো. রাশেদ খান (সিপিবি) কাস্তে প্রতীক পেয়েছেন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ৭ জন প্রার্থী লড়ছেন। এখানে ধানের শীষ পেয়েছেন মতিয়ার রহমান ফারাজি, দাঁড়িপাল্লা মো. গোলাম রসুল, লাঙ্গল মো. জহুরুল হক এবং হাতপাখা পেয়েছেন বায়েজীদ হোসাইন। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ পেয়েছেন মোটর সাইকেল, মাও. আশেক এলাহী (খেলাফত মজলিস) দেওয়াল ঘড়ি এবং সুকৃতি কুমার মণ্ডল (বিএমজেপি) রকেট প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়বেন।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে রশীদ আহমাদ (বিএনপি) ধানের শীষ, গাজী এনামুল হক (জামায়াত) দাঁড়িপাল্লা, মো. জয়নাল আবেদীন (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা, এম. এ হালিম (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল এবং স্বতন্ত্র হিসেবে শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীক পেয়েছেন।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনেও ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মো. আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি) ধানের শীষ, মো. মোক্তার আলী (জামায়াত) দাঁড়িপাল্লা, মো. শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা, জিএম হাসান (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল এবং মো. মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি) ঈগল প্রতীক পেয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যশোরের প্রতিটি জনপদে এখন নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।