সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ও বিএপির লোগো © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘসময় বিএনপির রাজনীতি করা এ নেতা একসময় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এরপরে যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে এবং ছিলেন জেলা কমিটি পদেও। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এবার এই নেতাকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
বিষয়টি সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও নাসিরনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এনামুল হুদা (সুমন) জানিয়েছেন। গত ৮ জানুয়ারি তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সম্মানে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি (একরামুজ্জামান) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত ৯ জানুয়ারি এনামুল হুদা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি (একরামুজ্জামান) দেখা করেন। নানা বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে নির্দেশ দেন। বিএনপির দলে থাকার জন্য বলেছেন এবং তার বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সম্মানে ও তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, এক ভিডিও বার্তায় সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সম্মানে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে দাখিলকৃত আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের নিকট দোয়া প্রার্থী এবং যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে যেন থাকতে পারি।
এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও দেশনায়ক তারেক রহমান জিন্দাবাদ বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
জানা গেছে, এর আগে একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এর আগেও একাধিকবার প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান।
২০২৪ সালেই তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একরামুজ্জামানকে উপদেষ্টা করা হয়। তবে তার দাবি, কমিটি ঘোষণার পরই তিনি পদত্যাগপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।