খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের হট্টগোল © টিডিসি ফটো
ঝালকাঠির নলছিটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল, হাতাহাতি ও মঞ্চ দখলের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নলছিটি মার্চেন্ট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই এই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভায় প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সময়ের স্বল্পতার কারণে বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হঠাৎ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি বক্তব্যরত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টুর হাত থেকে মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেন। এতে মঞ্চে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরপর সেলিম গাজীর নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের ২০ থেকে ৩৫ জন নামধারী কর্মী পরিকল্পিতভাবে মঞ্চে উঠে সিনিয়র নেতাদের সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপনসহ উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
![01]](https://content.thedailycampus.com/assets/file_manager/source/Abdur%20Rahman/%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A7%81/01%5D.jpg)
দোয়া ও মোনাজাতের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন বেপরোয়া আচরণে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের মতে, প্রায় ১০ হাজার মানুষের সামনে দলের সিনিয়র নেতাদের প্রকাশ্যে অপমান ও বিদ্রোহমূলক আচরণ শুধু দলীয় শৃঙ্খলাই ভঙ্গ করেনি, বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুইটি আসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের গ্রুপিং রাজনীতির জেরে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
ঘটনার পরপরই বিএনপির দলীয় অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর মতে, দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তৃণমূল পর্যায়ে এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় নলছিটি উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টুর নাম ঘোষণা করায় তাকে বক্তব্য দিতে বাধা দেন বিতর্কিত বিএনপি নেতা সেলিম গাজী।
.jpg)
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী বলেন, ‘আমি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়। সভা পরিচালনা করছিলেন নলছিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তৌহিদ আলম মান্না। আমাদের বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে বলেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের পারভেজ বলেন, আমি কথা বলতে পারব না। একপর্যায়ে মান্না আমাকে ধাক্কা দেন। আমার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, ‘সেলিম গাজী বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। তবে সময় কম থাকায় নলছিটি থেকে একজনই বক্তব্য দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। দলাদলি থাকায় কারও কারও মাথা একটু গরম ছিল, তবে তেমন কিছু হয়নি।
.jpg)
এ বিষয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী উপমহাদেশের অন্যতম বিনয়ী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বলছি—এখনো সময় আছে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন।’ তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন।