‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি, বাংলাদেশে এটির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?

২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৫৪ PM
বিএনপি

বিএনপি © সংগৃহীত

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার দ্বিতীয়টিতে ‘রেইনবো নেশন’ (রংধনু জাতি)-র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নেতারা বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে এ প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ (রংধনু জাতি) গড়ে তুলবে। এর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রেইনবো নেশন তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। 

রেইনবো নেশন তত্ত্ব কী?
রেইনবো নেশন তত্ত্বটির প্রবর্তক দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী ও মানবাধিকার কর্মী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্য নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা বোঝাতে তিনি এই ধারণাটি প্রবর্তন করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই তত্ত্বটিকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করেন 

রেইনবো নেশন নিয়ে বিএনপি নেতাদের ব্যাখ্যা:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আমরা একটা রেইনবো নেশন তৈরি করব। অর্থাৎ যে নেশন সব সম্প্রদায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আগামীতে বিএনপি সরকারে এলে অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সব সমস্যা বিবেচনা করা হবে।  

তিনি আরও বলেন, বিএনপির দায়িত্ব হচ্ছে সম্প্রদায়গুলোকে মূল সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিছুটা এক করা,  সেই সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যেন উন্নত হয়, তার ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করা। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রেইনবো নেশনের ব্যাখ্যায় বলেন, আজকে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। এখানে অনেক ধর্মের ও বর্ণের মানুষ বাস করে। সবার ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য বা সম্মান জানানোর জন্য রেইনবো নেশন। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে মূলে রেখে নতুনভাবে রেইনবো নেশনের কথা বলা হচ্ছে। যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। 

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা রেইনবো নেশন নিয়ে বলেন, আমরা পেছনে ফেলে আগাবো না। সবাইকে নিয়ে একটা ইনক্লুসিভ ন্যাশন করার  কথা বলছি। এবং গত এক দশকে যেভাবে জাতিকে বিভাজিত করা হয়েছে বিভিন্ন ধোয়া তুলে। কখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি, কখনো বলা হয়েছে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ, কখনো জঙ্গীবাদ, কখনো ধর্ম-মানে একেকবার একেকটা কার্ড সামনে আনা হয়েছে জাতিকে বিভাজিত করতে। সেই জায়গাটাতে আমরা মনে করি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আনবার জন্য এই রেইনবো নেশনের পরিকল্পনা।  

বাংলাদেশে এর বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রেইনবো নেশন একটি নতুন ধারণা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশকে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমানাধিকারভিত্তিক সমাজে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশে এটি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারের স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, নাগরিক সমতার নিশ্চয়তা এবং সমাজে পারস্পরিক আস্থা গঠন। সরকার গঠনের পর এগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল রেইনবো নেশন তত্ত্ব  বাস্তবায়ন করা সম্ভব। 

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ৪ নারীর জমি দখল ও ধান লুটের অভিযোগ
  • ১২ মে ২০২৬
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সিম্পোজ…
  • ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্…
  • ১২ মে ২০২৬
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, প্রতিবাদে ছাত্রদলের থানা ঘেরাও
  • ১২ মে ২০২৬
চিরকুটে বিদেশ যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ৮ হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা…
  • ১২ মে ২০২৬
সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করে বন্ধুত্বের কথা বলা যা…
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9