কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

২০ জুন ২০২৪, ০৮:০৮ AM , আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৫, ১১:০১ AM
কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ © সংগৃহীত

কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন)। বাংলা ভাষার এ বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ১৯১১ সালের এই দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সুফিয়া কামাল আজীবন মুক্তবুদ্ধির চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং যাবতীয় অন্যায়, দুর্নীতি ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন সমাজসেবী ও নারীনেত্রী ছিলেন সুফিয়া কামাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এজন্য বাংলার মানুষ তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ প্রকাশিত হয়। এ বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইটির প্রশংসা করেছিলেন। সুফিয়া কামাল ছিলেন ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। 

১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।  ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন।  এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন সুফিয়া কামাল। ১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। 

১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কারফিউ উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন সুফিয়া কামাল।

সাহিত্যে তার সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারী মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনি আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে। ‌‌সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী বৃহস্পতিবার

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছায়ানটের সভাপতি ছিলেন। তিনি ৫০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

ছয়টি আইফোন ও টাকাসহ তিন যুবক আটক
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন তাসনিম জারা
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গ্রানাডার সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করল বাংলাদেশ
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কাগমারী সম্মেলন মওলানা ভাসানীর অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক কর্মসূচী
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি-জামায়াতের শক্তি কোথায়, দুর্বলতা কোথায়
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় দলের আশা হারাচ্ছেন ‘না’ আকবর আলী
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬