ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটার সুরেশ রায়নার অবসরের পর এবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “তুমি এতোটাই ইয়ং এবং কর্মশক্তিপূর্ণ যে তোমার ক্ষেত্রে ‘অবসর’ শব্দটা আমি ব্যবহার করতে চাই না। বরং বলা ভালো ক্রিকেট মাঠে একটা ফলপ্রসূ ইনিংসের পর জীবনের পরবর্তী ইনিংসের জন্য তুমি প্যাড-আপ করছো”।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিশ্বজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসা বার্তা। এছাড়াও এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কাছে আসা দেশের প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠি শেয়ার করলেন রায়না।
মোদী তার খোলা চিঠিতে রায়নার উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘১৫ অগস্ট নিঃসন্দেহে তুমি যে সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করেছো সেটা তোমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। তুমি এতোটাই ইয়ং এবং এনার্জেটিক যে আমি তোমার ক্ষেত্রে ‘অবসর’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। তুমি ক্রিকেট মাঠে একটা ফলপ্রসূ ইনিংসের পর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য এখন প্যাড-আপ করছো। তুমি ক্রিকেটকে শ্বাস-প্রশ্বাস করে বেঁচেছো। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তোমার আকর্ষণ। মুরাদনগরের গলি থেকে লখনউয়ের খেলার মাঠে পা। তিন ফর্ম্যাটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে দিয়ে একটা ঘটনাবহুল জার্নি ছিল এটা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তোমায় শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে মনে রাখবে না, মনে রাখবে একজন বোলার হিসেবে। যে প্রয়োজনের সময় হাত ঘুরিয়ে খেলার মোড় ঘোরাতে পারত।
তিনি বলেন, তোমার ফিল্ডিং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কয়েকটা সেরা ক্যাচে তোমার স্বতন্ত্রতার ছাপ মিশে থাকবে। মাঠে তোমার অ্যাথলেটিসিজম দলের হয়ে যে কত রান বাঁচিয়েছে তা গুনতে বহুদিন লেগে যাবে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চিঠির ছবি শুক্রবার শেয়ার করেছেন রায়না। এসময় তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন খেলি তখন দেশের জন্য ঘাম-রক্ত প্রত্যর্পণ করি। পরিবর্তে দেশবাসীর ভালোবাসা সর্বোপরি দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে উত্তম প্রশংসা আর কিছু হতে পারে না। আপনার প্রশংসা এবং শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদী জি। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সবকিছু গ্রহণ করলাম। জয় হিন্দ!’
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগষ্ট দেশটির ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর ঘোষণার পর অনুরাগীদের অবাক করে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানেন সুরাশ রায়নাও। ২০১৮ জাতীয় দলের ছায়াপথ থেকে সরে যাওয়ার পর লড়াই করলেও আর সুযোগ মেলেনি। অপেক্ষা দীর্ঘায়িত না করে তাই ধোনির সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসকেই রায়না বেছে নিয়েছেন অবসরের দিন হিসেবে।