প্রতীকী ছবি © এ আই সম্পাদিত ছবি
এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নির্ভর করছে বদলি সফটওয়্যার তৈরির ওপর। ইতোমধ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যারের টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও শিক্ষক বদলির মডিউল চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হলেও ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিত (একনেক) মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ইএফটি, ইএফটি ইনটেগরেশন গেটওয়ে (এপিআই, আইবিএএস++এনআইডি ও বিটিআরসি), মাদ্রাসা পে বিল, অনলাইন এমপিও ইনফরমেশন কারেকশন শিক্ষক ট্রান্সফার অটোমেশনসহ মোট ১৮টি মডিউল নিয়ে সফটওয়্যারটি তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে সফটওয়্যায়ের ট্রামস অফ রেফারেন্স (টর) প্রক্রিয়া শেষ হয়ে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি মাসের ৭ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে টেন্ডার জমা দেওয়া হবে। এরপর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ থেকে ৭টির মধ্যে একটি শর্ট লিস্ট বা তালিকা তৈরি করবে। আরএফপি (রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল) করার পর, চুক্তিবদ্ধ হতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি মৌখিক নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা চুক্তি করার পর বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ফাইল পাঠানো হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসার পর ২০২৭ সালের শুরুতেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া কনসালটেন্সি ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান মেমিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করবে। চুক্তির দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে অর্থ্যাৎ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির মডিউলটি তৈরি করবে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি। এরপরই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করবে।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নির্ভর করছে বদলি সফটওয়্যার তৈরির ওপর। মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। সফটওয়্যার তৈরি হতে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন।’
সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চললে শিক্ষকদের কাছে ম্যানুয়ালি আবেদন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হার্ড কপিতে আবেদন নেওয়া হয়েছে মূলত শিক্ষকদের তথ্য নেওয়ার জন্য। সফটওয়্যারের মাধ্যমেই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’
এদিকে শিক্ষকদের প্রায় ১০ হাজার ম্যানুয়াল আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বদলির জন্য একেকজন শিক্ষক ৫টি করে পছন্দক্রম দিয়েছেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, নারী শিক্ষকদের আবেদন ও শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যগুলো ক্রস-চেক করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও মাদ্রাসার ইআইআইএন নম্বর, এমপিও শিট, এনআইডিসহ নানা বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ের কাজ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এখন বিভাগ ভিত্তিক জেলাগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। সবমিলিয়ে এসব কাজ করতে গিয়ে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। সফটওয়্যার তৈরির পরই শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তারা।
জানা যায়, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি), এমপিও কারেকশন, বিল সাবমিশন, বিবিধ ও এপিআই, ইমপ্লিমেন্টেশন, বদলি মডিউল প্রকল্পের চুক্তি সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে চালু হবে। চুক্তি সম্পাদনের ৬ মাসের মধ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (মেমিস) ১৮টি সফটওয়্যার স্বয়ংসম্পূর্ণরুপে চালু হবে। এ ছাড়াও প্রজেক্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজস্ব আইটি সেলের মাধ্যমে কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেমিস সফটওয়্যারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তির দিন থেকে ৩ মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলির মডিউলটি চালু হবে বলে আশা করছি।