নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর বাতিল নিয়ে যা বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম

১০ মার্চ ২০২০, ১১:৩৯ AM

© ইন্টারনেট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মুজিববর্ষ উদপাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তবে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ সরকার অনুষ্ঠান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তার সফর বাতিল করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদীর সফর বাতিল করার বিষয়টি দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এটি নিয়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একটি বিশ্লেষনী প্রতিবেদন ছেপেছে। সেটি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

গতকালই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর রাখা স্থগিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের জেরে ওই দিন ঢাকায় মুজিব বর্ষের মূল অনুষ্ঠানটিকে সীমিত পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমারের কথায়, ‘এই অনুষ্ঠানের নতুন তারিখ শীঘ্রই আমাদের জানানো হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটির সদস্য কামাল আবদুল নাসের চৌধুরি জানিয়েছেন, ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে যে রকম বড় করে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল সেটি ওই মাপে আর হচ্ছে না। ওই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকার এবং বক্তৃতা করার কথা ছিল মোদী-সহ অন্যান্য রাষ্ট্রনেতার।

সূত্রের খবর, সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ঢাকাকে জানানো হয়েছে, ওই দিন ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযোগ করাতে উৎসুক সাউথ ব্লক। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

করোনাভাইরাসের কারণে এর আগে বেলজিয়াম সফর বাতিল করেছেন মোদী। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়া এবং সেখানে হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়ে গিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার খসড়া তৈরি করার জোরদার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল।

আপাতত, ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে যার কিছুটা বাংলাদেশের কাছে পৌঁছে দিতে চাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে জানান, ‘যে পরিস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা সচেতন। প্রতিবেশী দেশগুলিতে যাতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না-পারে, সে জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।’

কূটনীতির জগতের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শাপে বর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঢাকা সফর নিয়ে বাংলাদেশে প্রবল অসন্তোষের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে সে দেশের সরকারি, রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিসরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা বিষয়টিতে ঘৃতাহুতি হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতে সংখ্যালঘু তথা মুসলমানদের উপর অত্যাচার করছেন মোদী, অমিত শাহ—এই মর্মে মুখর হতে থাকেন সে দেশের অনেকে। শুধু বিএনপি, জামাত বা অন্যান্য বিরোধী দলই নয়, আওয়ামী লিগের নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীরাও মোদী-বিরোধিতা শুরু করেন। মোদীর প্রস্তাবিত সফরে বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচিও নেয় হাসিনা-বিরোধী জোট। গত সপ্তাহে মোদী বিরোধিতায় মিছিল করে বিভিন্ন ইসলামিক দল।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে দাঁড়াচ্ছিল যে, হাসিনাকে আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিতে হয় সংযম বজায় রাখার। সূত্রের খবর, তিনি নেতাদের এটাও বলেন যে, ভারত সরকার যদি ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না-পারে সেটা তাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশ তাতে নাক গলাবে না। মোদীর সফরের সময় কোনও বেসুর তৈরি হলে তা যে তাঁর পক্ষে চরম বিড়ম্বনার কারণ হবে, সে কথাও দলের নেতাদের জানিয়েছিলেন হাসিনা।

সূত্র: আনন্দবাজার।

ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি হচ্ছেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ব্র্যাকে, নেবে ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বিআরটি প্রকল্পে ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবর…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোনায় চৈত্রসংক্রান্তিতে দুই দিনব্যাপী খনার মেলা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে হাসনাতের স্ট্যাটাস ভাইরাল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে অ্যাকশনএইড, আবেদন শেষ ২১ এপ্রিল
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬