মালাগাসি রাজার মাথার খুলি ফেরত দিলো ফ্রান্স

২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৪:১৫ PM , আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৫ PM
রাজার মাথার খুলি বহন করে নেওয়া হচ্ছে

রাজার মাথার খুলি বহন করে নেওয়া হচ্ছে © সংগৃহীত

মালাগাসি রাজার মাথা ফেরত দিয়েছে ফ্রান্স। ঔপনিবেশিক যুগের যুদ্ধে ফরাসি সৈন্যদের হাতে নিহত হওয়া এই রাজার মাথার খুলি আনুষ্ঠানিকভাবে মাদাগাস্কারে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি। ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খুলিগুলোর প্রত্যর্পণ সম্পন্ন করে। 

ধারণা করা হচ্ছে খুলিগুলো ১৯ শতকের সাকালাভা জনগোষ্ঠীর রাজা টোয়ারা ও তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করা দুই সেনার। ১৯ শতকের শেষ দিকে ফরাসি বাহিনী সাকালাভা রাজ্যগুলোকে পরাজিত করে মাদাগাস্কারকে উপনিবেশে পরিণত করে। ১৮৯৭ সালের আগস্টে রাজা টোয়ারাকে শিরশ্ছেদ করে ফরাসি সেনাবাহিনী। পরে তাঁর খুলি যুদ্ধলব্ধ ট্রফি হিসেবে প্যারিসে নিয়ে গিয়ে জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। ১২৮ বছর ফরাসি জাদুঘরে ছিল খুলিগুলো। ওই জাদুঘরে মাদাগাস্কার থেকে সংগৃহীত আরও বহু দেহাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে।

দাফনের উদ্দেশ্যে মানব দেহাবশেষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ করে দিতে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ফ্রান্স একটি আইন পাস করে। ওই আইন অনুযায়ী, ফ্রান্সের সরকারি সংগ্রহে আছে এমন কোনো মানব দেহাবশেষের বয়স ৫০০ বরের কম হলে সেগুলোকে তাদের মূল দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। এই আইনের মাধ্যমে, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব দেহাবশেষ ফেরত পাঠাতে পারেন, কোনো বিশেষ আইনের প্রয়োজন হয় না। এর আগে, প্রতিটি দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর জন্য আলাদা করে আইন পাস করতে হতো। এই পদক্ষেপটি ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অতীতের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই খুলিগুলো যে প্রক্রিয়ায় ফরাসি জাদুঘরে প্রবেশ করেছিল তা নিঃসন্দেহে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও মানব মর্যাদার প্রতি অসম্মান। আর এ সবই ঘটেছে ঔপনিবেশিক সহিংসতার সময়।’এর আগে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আফ্রিকায় ফ্রান্সের উপনিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফ্রান্সের ভুল স্বীকার করে আসছেন ইমানুয়েল মাখোঁ। চলতি বছরের এপ্রিলে মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভো সফরকালে দেশটির ওপর ফ্রান্সের উপনিবেশকে রক্তাক্ত ও মর্মান্তিক বলে অভিহিত করে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়াস জানান তিনি।

মাদাগাস্কারের সংস্কৃতি মন্ত্রী ভোলামিরান্তি ডোনা মারা বলেন, খুলিগুলো ফেরত দিয়ে ফ্রান্স ইতিহাস গড়ল। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার যুগ শুরু হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ঔপনিবেশিক যুগের মানব দেহাবশেষ ফ্রান্স কর্তৃক ফিরিয়ে দেওয়া এটিই প্রথম ঘটনা নয়। সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক মহিলা, যাকে নিষ্ঠুরভাবে "হটেনটট ভেনাস" ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আইনের অধীনে এটিই প্রথম প্রত্যাবর্তন যা প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করে তোলে। অনুমান করা হয় যে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে বৈজ্ঞানিক কারণে বিশ্বজুড়ে ২০,০০০ এরও বেশি মানুষের দেহাবশেষ ফ্রান্সে আনা হয়েছে।

সংবাদ সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স

এফসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৫.৯৮ শতাংশ 
  • ০৪ জুন ২০২৬
দেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব হলেও বাস্…
  • ০৪ জুন ২০২৬
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কত…
  • ০৪ জুন ২০২৬
রান্নার সময় হঠাৎ সিলিন্ডারের আগুন, ঘর পুড়ে নিঃস্ব ৩ পরিবার
  • ০৪ জুন ২০২৬
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে ভ্যাট নিয়ে যা বললে…
  • ০৪ জুন ২০২৬
২ শতাংশ জমি নিয়ে ৩০ বছরের বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪৪ ধার…
  • ০৪ জুন ২০২৬