ক্লাউডবার্স্ট © সংগৃহীত
বর্ষা মৌসুম মানেই উপমহাদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশে সাম্প্রতি একের পর এক ক্লাউডবার্স্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ডেকে এনেছে। চলতি সপ্তাহে ক্লাউডবার্স্টের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে পাকিস্তানে ৩৫৪ জন, ভারতের শাসিত জম্মু কাস্মীরে অর্ধ শতাধিক মানুষ মারা যায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই ক্লাউডবার্স্ট। সাধারণত কোনো এলাকায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে ক্লাউডবার্স্ট বলা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, কারণ পানির প্রবল স্রোত নিচে নেমে আসে, সৃষ্টি করে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, ঘরবাড়ি ধস ও সড়ক ধস।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় আবহাওয়াবিদ রুচিত কুলকার্নি বলেন, ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘ বিস্ফোরণ হচ্ছে ৩০ বর্গকিলোমিটার বা তার কম এলাকায় ঘনীভূত হয়ে প্রতি ঘন্টায় ১০০ মিমি বা তার বেশি হারে বৃষ্টিপাত।এটা সাধারণত বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলে ঘটে । তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশে, আরব সাগর থেকে পশ্চিমে যে আর্দ্রতা আসে তা প্রায়শই পাহাড় দ্বারা বাধা পায়, যা অরোগ্রাফিক লিফট নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়া।এর ফলে বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয় যা বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা ধরে রাখতে পারে।
কুলকার্নি বলেন,আর্দ্র বায়ুপ্রবাহের ফলে মেঘটি আরও বড় হতে থাকে এবং বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা না থাকলে, এটি এত ভারী হয়ে যায় যে এক সময়ে এটি ফেটে যেতে শুরু করে। ফলে তৈরি হয় ক্লাউডবার্স্টের।
২০১৩ সালের জুনে ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে ক্লাউডবার্স্টের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় রেকর্ড প্রায় ৬,০০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। কেদারনাথ বন্যার উপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সেসময় অর্ধেকেরও বেশি বৃষ্টিপাত বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস এবং অ্যারোসোল কণার বৃদ্ধির কারনে হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে যে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।