© সংগৃহীত
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নকল করে ধরা পড়লে কড়া শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করেছে ভারতীয় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এমনকি সেই বছরের পরীক্ষাও বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার। সিবিএসই-র পরে এবার নকল এবং পরীক্ষার হলে মোবাইল রাখা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
আনন্দবাজার জানায়, পরীক্ষার হলে নকল করলে বা মোবাইল নিয়ে ধরা পড়লে পরীক্ষার্থীর ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য আরও কিছু কড়া নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রত্যেক রুমে দু’জন করে পর্যবেক্ষক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক রাখতে হবে। কোনও রুমে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০-এর বেশি হলে, সেখানে তিনজন পর্যবেক্ষক রাখতে হবে। এই বিষয়ে শিক্ষক সংগঠন জানায়, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে এত শিক্ষক নেই। এই নিয়ম কার্যকর করতে হলে সরকারের উচিত শিক্ষক নিয়োগ করা।
সংবাদ মাধ্যমটি আরও জানায়, মার্চ মাসের ৩ তারিখ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে শুরু হয়ে ১৮ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে।। এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য বেশকিছু নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা সংসদ।
প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ বছর থেকে ছোট ছোট প্যাকেটে স্কুলগুলিতে প্রশ্নপত্র পাঠাবে সংসদ। প্রধান শিক্ষক বা ভেনু সুপারভাইজ়ারের রুমে প্যাকেট খোলা হবে না। পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের সামনেই প্রশ্নপত্র খুলতে হবে। পরীক্ষার দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব থাকবে ভেনু সুপারভাইজ়ারদের উপরে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। পর্যবেক্ষকদের সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে। আগে থেকেই তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ক্যালকুলেটর ছাড়া মোবাইল বা কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারবেন না পরীক্ষার্থীরা। কেউ মোবাইল নিয়ে বা টোকাটুকি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাঁর সেই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। প্রসঙ্গত, সিবিএসই ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইল নিয়ে ধরা পড়লে তিনি ওই বছর এবং পরের বছর পরীক্ষা দিতে পারবেন না। এ বার সংসদও কড়া পদক্ষেপ করল। তাদের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছনোর আগেই পুলিশকর্মীদের পৌঁছে যেতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না। কাছাকাছি ফোটোকপির কোনও দোকান খোলা রাখা যাবে না। মাইক বাজানো যাবে না।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ প্রতি বারেই নতুন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ বছরও তাই করছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। এত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হলে অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক আনাতে হবে। তাই সরকারের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে আরও শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত।