রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের শেষ মুহূর্তের বর্ণনা দিলেন পাশের হেলিকপ্টারের কর্মকর্তা

২২ মে ২০২৪, ০১:৫৬ PM , আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৭ PM
ইব্রাহিম রাইসি ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য

ইব্রাহিম রাইসি ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য © সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি তেমন কিছুই। তবে এবার এ সম্পর্কে অনেকটাই ধারণা দিয়েছেন পাশের হেলিকপ্টারে থাকা প্রেসিডেন্টের প্রধান কর্মকর্তা গোলাম হোসেইন ইসমাইল। তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশের হেলিকপ্টারে থেকে রাইসির হেলিকপ্টার সম্পর্কে যেটুকু ধারণা পেয়েছেন, তার সবটাই জানিয়েছেন ইরনাকে।

সংবাদমাধ্যম দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইলি বলেন, আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে যান প্রেসিডেন্ট রাইসি। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। স্থানীয় সময় বেলা একটা নাগাদ আবহাওয়া স্বাভাবিক দেখে হেলিকপ্টার তিনটি যাত্রা শুরু করে। প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মাঝখানে ছিল। সামনে একটি ও পেছনে আরেকটি হেলিকপ্টার ছিল। পুরো বহরের দায়িত্বভার ছিল প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির পাইলটের ওপর। 

তিনি বলেন, যাত্রা শুরুর ৪৫ মিনিট পর রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের পাইলট অন্য দুটি হেলিকপ্টারের পাইলটকে আরও উঁচুতে উঠে ভ্রমণ করার নির্দেশ দেন। মূলত তিনি কাছাকাছি থাকা ঘন মেঘ এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। 

ইসমাইল বলেন, ‘ওই সময় হঠাৎ রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উধাও হয়ে যায়। ঘন মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার ৩০ সেকেন্ড পর আমাদের পাইলট প্রথম খেয়াল করেন, প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দেখা যাচ্ছে না। এরপর আমাদের পাইলট বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকেন। হেলিকপ্টারটি খুঁজতে থাকেন।’

রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার রেডিও ডিভাইসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা সফল হয়নি। এরপর তাঁদের হেলিকপ্টারটি উচ্চতা কমিয়ে আনে এবং পাশের একটি তামার খনিতে অবতরণ করে, এমনটাই জানান গোলাম হোসেইন ইসমাইলি।

ইসমাইলি আরও বলেন, ওই সময় ‘অদৃশ্য হয়ে যাওয়া’ হেলিকপ্টারে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহিয়ান ও প্রেসিডেন্ট রাইসির নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধানকে বারবার কল করা হয়। অন্য দুটি হেলিকপ্টারের পাইলটরা প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারের পাইলট ক্যাপ্টেন মোস্তাফাভিকে কল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের কারোরই সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইসমাইলি বলেন, জটিল ওই পরিস্থিতিতে শুধু রাইসির হেলিকপ্টারে থাকা মোহাম্মদ আলী আল-হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তার (আল-হাশেম) অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি শুধু জানান, একটি উপত্যকায় তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে ইসমাইলি আরেকবার আল-হাশেমকে কল করতে সক্ষম হন। তখনো একই কথা জানান। মোহাম্মদ আলী আল-হাশেম ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির মুখপাত্র।

‘আমরা যখন বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাই, সেখানে সবার মরদেহ দেখি। বুঝতে পারি, প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ অন্য ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে শহিদ হয়েছেন। তবে একমাত্র আলে-হাশেম হয়ত ঘণ্টাখানেক বেঁচে ছিলেন।’

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রী অদিতাকে হত্যা, গৃহশিক্ষকের মৃ…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে পাল্টা হামলা-ভাঙচুর গ্রাফিক আর্টস …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
পিবিআইয়ের রহস্য উদঘাটন: পরকীয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্বে বেনাপো…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে অসুস্থ জামায়াত এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মেডিকেলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনের তারিখ ঘো…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬