জাপানে বার্ড ফ্লুতে কোটি পাখির মৃত্যু, পুঁতে ফেলার জায়গা সংকট

  © সংগৃহীত

জাপানে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে বার্ড ফ্লু। রোগটি এতই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে, এখন পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক পাখি ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। এতো বড় ক্ষতির ওপর এত সংখ্যক হাঁস-মুরগিকে মাটিতে পুঁতে ফেলার পর্যাপ্ত জমি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নেই। খবর রয়টার্সের। 

জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত জাপানে এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি পাখি এবং মুরগি মারা গেছে। এতেই ডিমের বাজার আগুন হয়ে রয়েহে। এজন্য অনেক রেস্টুরেন্ট ও পরিবার তাঁদের খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিয়ে দিয়েছে। 

আরও পড়ুন: ‘মুরগি’ বলায় সিটি-আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী এনএইচকে-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত হাস-মুরগিকে জমির ঘাটতির কারণে পুঁতে ফেলা  যাচ্ছে না। ২৬টি অঞ্চল এবং প্রদেশের মধ্যে ১৬টিতেই পাখিদের পুঁতে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত জমির সংকট রয়েছে।

চলতি বছরে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হয়েছে। যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি শিল্প এবং ডিমের সরবরাহ ধ্বংস হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরে এই ভাইরাসে ৫ কোটি ৮৬ লাখ পাখি মারা যায়। তখন দেশটিতে ডিমের দাম অনেক বেড়ে যায়। এমন অবস্থা দেখা গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর এবং কলম্বিয়ায়ও।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের একটি ইউনিট জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাঝারি আকারের ডিমের প্রতি কিলোগ্রামের গড় পাইকারি মূল্য ছিল ৩৫০ ইয়েন বা ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ ডলার। ১৯৯৩ সালের সালের পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ দাম।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় কৃষকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংক্রামিত মুরগিকে খামার থেকে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।