পড়তে বা লিখতে– কোনোটাই জানেন না ৬৬ বছর বয়সী আছিয়া আহমাদ। কিন্তু তিনিই জীবনের শেষ বেলায় এসে শুনে শুনে মুখস্ত করেছেন পুরো কোরআন। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) ইয়ামেনি নারী আছিয়ার কোরআন মুখস্তের বিষয়ে একটি বিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা মুবাশির।
এ প্রসঙ্গে আছিয়া আহমাদ বলেন, ‘আমি রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইলে কোরআন শুনতাম। আমার হৃদয়টা কোরআনের সঙ্গেই লেগে থাকত। ‘আসলে আমাকে আমার দৃঢ় সংকল্প কোরআন হিফজের প্রতি প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে রাখত। সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করার প্রতি বিশেষ আগ্রহই আমার দৃঢ় সংকল্প ছিল।’
মায়ের হিফজ প্রসঙ্গে আছিয়া আহমাদের ছেলে বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে মধ্যরাতের পর তার কক্ষে প্রবেশ করে দেখতাম– তিনি নামাজ পড়ছেন, কাঁদছেন। তার হৃদয় ভারাক্রান্ত সেটি অনুভব করতাম। একদিন মাকে জিজ্ঞেস করলাম– কাঁদছো কেন মা? তিনি উত্তর দিলেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি– তিনি যেন আমাকে সাহায্য করেন ও আমার জন্য পবিত্র কুরআন হিফজ সহজ করে দেন।’
আছিয়া আহমাদ ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরআন মুখস্থ শুরু করেন। এ বিষয়ে তার শিক্ষিকা বলেন, ‘তার কোরআন হিফজ বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। কেননা, তিনি পড়তে বা লিখতে– কোনোটাই জানেন না। এজন্য হিফজের পথে আমরা বেশ কঠিনতার সম্মুখীন হয়েছি। আছিয়ার কঠোর পীড়াপীড়িতেই আসলে পবিত্র এ গ্রন্থ মুখস্থ সম্ভব হয়েছে।’
সূত্র : আল-জাজিরা মুবাশির