২০ টাকার জন্য ২২ বছর আইনি লড়াই

৩০ অক্টোবর ২০২২, ০৯:১০ PM , আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৬ AM
তুঙ্গনাথ চতুর্বেদী

তুঙ্গনাথ চতুর্বেদী © সংগৃহীত

মাত্র ২০ টাকার জন্য ২২ বছর আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন তুঙ্গনাথ চতুর্বেদী নামক এক ভারতীয় বৃদ্ধ। নানা মানুষ নানা কথা বললেও তিনি ছিলেন অনড়। তিনি আশা করেন এই আইনি লড়াই আরও অনেককে অনুপ্রেরণা জোগাবে। অন্যরাও ন্যায়ের দাবিতে লড়াই করবেন। তুঙ্গনাথ চতুর্বেদী পেশায় একজন আইনজীবী ।

তার লড়াই শুরু হয় ১৯৯৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর। মথুরা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মুখে পড়েন আইনজীবী তুঙ্গনাথ। তিনি টিকিট কাউন্টারে গিয়ে মোরাদাবাদ যাওয়ার দুইটি টিকিট চান। তৎকালীন সময়ে একটি টিকিটের দাম ছিল ৩৫ টাকা অর্থাৎ দুইটি টিকিটের দাম ৭০ টাকা। টিকিট কাউন্টারে ১০০ টাকার নোট দিলে তাকে ৩০ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন রেলকর্মী।

আরও পড়ুন: পাবলিক পরিবহনে হাফ ভাড়া দিতে পারবেন জবি শিক্ষার্থীরা

তুঙ্গনাথ বলেন, ‘সে সময় কম্পিউটার ছিল না। তাই হাতে-লেখা টিকিট দিয়েছিলেন রেলকর্মী।টিকিটের দাম বাবদ অতিরিক্ত ২০ টাকা নিয়েছিলেন রেলকর্মী।’ সে কথা জানিয়ে টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি আইনজীবী। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন রেলকর্মী। অতঃপর জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে উত্তর-পূর্ব রেলওয়ে (গোরক্ষপুর), মথুরা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন এবং ওই রেলকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। সেই ২০ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রায় ২২ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছেন তুঙ্গনাথ। গত ৫ অগস্ট তাঁর পক্ষে রায় দিয়েছে মথুরার ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের প্রেসিডেন্ট নবনীত কুমার নির্দেশ দেন, ৩০ দিনের মধ্যে ২০ টাকা ফেরত দিতে হবে তুঙ্গনাথকে। তার সঙ্গে ১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১২ শতাংশ হারে সুদও মেটাতে হবে ভারতীয় রেলকে। তা ছাড়া মামলার খরচ এবং তা চলার সময় তুঙ্গনাথের যে মানসিক চাপ গিয়েছে, তার জন্য ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রেলকে।

৬৬ বছর বয়সের তুঙ্গনাথ জানিয়েছেন, এত বছর যে লড়াই করেছেন, তার তুলনায় এই ক্ষতিপূরণ খুবই সামান্য। তবে তিনি ন্যয়বিচার চেয়েছিলেন, টাকা নয়। তাই এই রায়ে তিনি খুশি।

তিনি আরও জানান, মামলা করার প্রথম দিন থেকেই জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। মামলা জিতে বৃদ্ধের মুখে ছিল সিনেমার সংলাপ, ‘কানুন কে ঘর দের হ্যায়, অন্ধের নেহি (দেরি হলেও ন্যায়বিচার হবেই)।’ তবে নিজে আইনজীবী ছিলেন বলে এই দীর্ঘ লড়াই চালাতে পেরেছেন। নাহলে এত বছর ধরে আইনজীবীকে ফি দেওয়া সম্ভব হত না।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা 

ট্যাগ: আইনজীবী
‘নিষ্ক্রিয়’ স্ক্রিন টাইমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি, মস্তিষ্ক সক্রিয়…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কাল তিন উপজেলায় সাধারণ ছুটি
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কাল তিন উপজেলায় সাধারণ ছুটি
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দূর করবে রাসেলের ‘স্মার্ট ফুয়…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের নতুন ডিসি হলেন নোমান হোসেন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টি নামলেই কেন খিচুড়ি খেতে মন চায়?
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close