অন্যের নির্বুদ্ধিতার দায় কেন শিক্ষার্থীদের?

২২ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪২ PM

© প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারি কালীন সময়ে যে সমস্ত শব্দ আমাদের প্রতিদিন দেখতে হয় বা শুনতে হয় তাদের মধ্যে "সীমিত আকারে", "স্বাস্থ্যবিধি মেনে", "সামাজিক দূরত্ব মেনে" অন্যতম। এই সমস্ত শব্দ সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান খোলা বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে নোটিশে বিশেষভাবে বলা থাকলেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এই সমস্ত শব্দের যে কোন গুরুত্ব নেই সেটা যে কোন নন এসেন্সিয়াল জায়গায় গেলেই বুঝতে পারা যায়।

দেশের  সিনেমাকে বাচাতে সিনেমা হল,পর্যটনকে বাচাতে পর্যটন কেন্দ্র, ব্যবসাকে বাচাতে শপিং মল, পরিবহন ক্ষেত্রকে বাচাতে স্বাভাবিক নিয়মে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার সময় এই সমস্ত নির্দেশনা মোটা অক্ষরে লেখা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ আছে কি নেই নানা খবরে বা বিভিন্ন ভ্রমণ গ্রুপের আপলোডকৃত ভিডিও দেখলে বুঝলে দেখা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে শুধু মোবাইল কোর্টের সামনে মাস্ক পরিধান করলেও সেই সীমানা পার হলেই তাদের কাছে নানা বাহানা তৈরি থাকে।

করোনাকালীন সময়ে পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে আরো দর্শনার্থী যাওয়ার প্রবনাতা সাধারণ সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর জন্য রয়েছে বিশেষ অফার, ফ্রি প্রবেশ সহ নানা সুবিধা যাতে করোনা লকডাউনে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। করোনাকালীন সময়ে স্টেডিয়ামে ৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন করার কথা থাকলেও দর্শকের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছিল। আর এই সময়ে ১০ হাজার লোকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলা উপভোগ করা আসলেই চ্যালেঞ্জের, আর আমরা এই কতটুকু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি সেটা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এই সব পরিস্থিতিতে আসল ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যারা করোনার সময় কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই আশায় দীর্ঘ ৮ মাস বাসায় অবস্থান করছে। করোনাকালীন সময়ে এই সকল নন এসেন্সিয়াল জায়গা খোলা রাখার ফলে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেহেতু এই সমস্ত জায়গায় নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি মানার ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেটা সম্ভব নয়, তাহলে এতে কি করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না? তাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য  শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

দেশের বাকী ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল প্রতিষ্ঠান চালানো যেতে পারলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে।এর সাথে পরীক্ষা না নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখন অনলাইন ক্লাস মুখ থুবরে পড়ছে। ব্যাতিক্রম দেখা যাচ্ছে শুধু মাদ্রাসা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরীক্ষা ও সর্বশেষের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের পরীক্ষায় অনুমতি দেওয়া ক্ষেত্রে এবং এই সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণ কারোরই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় নাই।

বাস্তবিক ক্ষেত্রে যত দিন দেশের জনগণ নিজের মতো করে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে বিনা মাস্ক বা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলাচল করবে ততো দিন করোনা মোকাবিলার সকল পদক্ষেপ আশার আলো দেখবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে না পারলে যেমন করোনা মোকাবিলা করতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হবে, পাশাপাশি এই সকল ব্যক্তি উদাসীনতার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

সাধারণ মানুষের এই চরম দ্বায়িত্বহীনতার মূল্য শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবনের মুল্যবান সময় দিয়ে পরিশোধ করছে। যত দিন পর্যন্ত আমারা আমাদের ব্যবহারের পরিবর্তন না করবো বা সচেতন না হবো তত দিন সরকারের কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় আমাদের করোনাকালীন সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে,যাতে আমাদের সন্তানদের যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সুদানে হাসপাতালে হামলায় নিহত ৬৪
  • ২২ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ের দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পকে যে শর্ত দিল রাশিয়া
  • ২২ মার্চ ২০২৬
দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন, আজ ভরি কত?
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ড্রাম সেতু ভেঙে নদীতে ডুবে নিহত বেড়ে ৫
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence