বড় দুর্ঘটনার পর অনেকেই সরকারি তথ্য কেন বিশ্বাস করেন না?

২৩ জুলাই ২০২৫, ১০:০৬ PM , আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫৫ PM
ড. মো: শাহীন মোল্লা

ড. মো: শাহীন মোল্লা © টিডিসি

বিমান বিধ্বস্ত, অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস বা ট্রেন দুর্ঘটনার মতো বড় কোনো সংকটের পর সরকার যখন হতাহতের সংখ্যা বা ঘটনার বিবরণ দেয়, তখন দেখা যায় অনেকেই তা বিশ্বাস করতে চান না। এই অবিশ্বাসের পেছনে শুধু রাজনীতি বা মিডিয়া নয়, কাজ করে একাধিক গভীর মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া। চলুন দেখি, কেন এমনটা ঘটে:

১. সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ

আস্থার ঘাটতি: অনেক মানুষ সরকারের প্রতি আগেই আস্থাহীন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যদি আগেও সত্য গোপন বা তথ্য বিকৃতির নজির থাকে।

তথ্যের অসঙ্গতি: প্রথমে বলা হয় ৩ জন নিহত, পরে বলা হয় ১৫ জন। এতে মানুষ ভাবতে বাধ্য হয়—“সত্যটা কি আদৌ জানা হচ্ছে?”

সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব: ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপ্রমাণিত তথ্য মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

স্বচ্ছতার অভাব: বিশ্বস্ত সূত্র, ছবি, প্রমাণ বা নিরপেক্ষ তদন্ত না থাকলে সরকারি তথ্যকে অনেকেই ‘ঘটানো’ বা ‘লুকানো’ মনে করে।

ধারণা যে সরকার সংখ্যা কমিয়ে বলে: অনেকেই বিশ্বাস করে, সরকার জনগণকে আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে বা আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষায় প্রকৃত সংখ্যা কমিয়ে বলে।

২. মনস্তাত্ত্বিক কারণ (Psychological Factors)

Confirmation Bias (নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত): যে ব্যক্তি মনে করে সরকার কখনও সত্য বলে না, সে সরকার যা-ই বলুক না কেন, সেটিকে মিথ্যা ভাববে। এটাই Confirmation Bias।

Cognitive Dissonance (চিন্তাগত দ্বন্দ্ব): “এত কম মানুষ মারা যেতে পারে না”—এই ধারণা মেনে নেওয়া কঠিন হলে মানুষ তথ্যকে অস্বীকার করে মানসিক স্বস্তি পেতে চায়।

Need for Control: দুর্যোগ আমাদের অসহায় মনে করায়। সরকারকে দোষ দিয়ে বা তাদের তথ্য অস্বীকার করে মানুষ এক ধরনের মানসিক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।

Learned Helplessness থেকে তৈরি অবিশ্বাস: বারবার প্রতারিত হলে মানুষ ভবিষ্যতেও সত্যিকথা বিশ্বাস করতে চায় না।

Projection (প্রক্ষেপণ): নিজের ভয়, অনিশ্চয়তা বা অসন্তোষ সরকার বা কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দেওয়া। মানুষ ভাবে, “আমার মনের অশান্তির কারণ সরকারই হবে।”

Echo Chamber ও Groupthink: যদি সবাই বলে “সরকার মিথ্যা বলছে”, তখন কেউ আলাদা করে ভাবতে চায় না। গোষ্ঠীর চাপেই অবিশ্বাস জন্ম নেয়।

এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কী?

সরকার ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে দেখা; গুজব ও অপ্রমাণিত তথ্য এড়িয়ে চলা; সহানুভূতি ও দায়িত্বশীল আচরণ;
হতাহতদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতির প্রকাশ; তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করতে শেখা, অন্ধভাবে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস না করা

শেষ কথা:
সব সত্য চোখে দেখা যায় না। আর সব তথ্যেই সন্দেহ করলে এক সময় সহানুভূতি ও মানবিকতা হারিয়ে যায়।
তাই তথ্যের সঙ্গে মনোযোগ ও মানবতা—দুটোই জরুরি। সত্যকে জানুন, সংবেদনশীল থাকুন, দায়িত্বশীল আচরণ করুন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিমানবন্দরে যাত্রীদের কষ্ট লাঘব নিয়ে বিশেষ উদ্যোগের কথা জান…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লিডিং ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীর সাফল্য
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে শরৎ উৎসব অনুষ্ঠিত
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
এনএসইউতে পোশাকশিল্পের টেকসই উন্নয়নে এআইভিত্তিক প্রতিযোগিতা …
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লিতে মেট্রো-ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না: সুপ্রিম ক…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
যে ছাত্রদল নেতার রক্তে গতি পেয়েছিল নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬