বাচ্চাটিকে ট্রাংকে ভরে রাখতে কার চাপ ছিল?

১৮ মার্চ ২০১৯, ১১:১৯ PM
প্রতীকী ছবি। ইনসেটে লেখক

প্রতীকী ছবি। ইনসেটে লেখক © টিডিসি ফটো

একটি মেয়ের ফোন। কিছু কথা বলতে চায়। ওপাশ থেকে ইতস্ততভাব। আমি কীভাবে নেবো কথাগুলো। তবু আমার পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ফোন। আমি তখন সাংবাদিকতা ছেড়ে সবে শিক্ষকতায়। তবু সহযোগিতার জন্য ফোন। বললো।

মেয়েটি অবিবাহিত। কিন্তু তার পেটে বাচ্চা। ছেলে চাপ দেয় অ্যাবোরশনের। মেয়ে ‘মা’ হতে চায়। মেয়েটির ভাষ্য, এক ধরনের ইনফেচুয়েশনে পড়ে সম্পর্ক। একদিন অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে সম্পর্কের গভীরতা পায়। তারপর অনাগত জীবনের আবির্ভাব।

মেয়েটি বলছে। আর কাঁদছে। সে তার বাচ্চাটাকে খুন করতে চায় না। সে ছেলেটিকে বিয়ের কথা বলতে থাকে। ছেলেটি নারাজ। ‘বাচ্চা খুন’ করতেই হবে। মেয়েটি ‘মা’ হতে চায়। সে জানে, পরিবার মানবে না, সমাজ মানবে না। তবু, প্রয়োজনে একা থেকে বাচ্চার দায়িত্ব নিতে চায়।

আমি মেয়েটিকে স্যালুট জানালাম। সমাজ যদি বলে, তারা যা করেছে পাপ, তাহলে খুন করা তার চেয়েও বড় পাপ। তাই, মেয়েটিকে বললাম, আইনের আশ্রয় নিতে। এ ব্যাপারে আমি তাঁকে সহযোগিতা করবো। তবু, বাচ্চা খুন নয়।

শেষমেষ ছেলেটির বেড়াজাল, জানাজানির পর পরিবারের চাপ আর সামাজিক বাস্তবতার কাছে হার মানে মেয়েটি। জন্মের আগেই মৃত্যুকে আলিংগন করে বাচ্চাটি। একদিন মেয়েটি ফোন করে এসব বলে যে অঝোর কান্না কেঁদেছিলো, তখন আবারো নতুন করে বুঝলাম, এ বেড়াজাল, এ সমাজের কথিত সম্মান কতটা শক্ত।

আমি জানতে চাই, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মা জন্মের পর তার বাচ্চাকে ট্রাংকে ভরে রেখেছিল, তার ওপর কিসের এবং কার চাপ ছিলো?

আমার জানার দরকার নেই, মেয়েটি বিবাহিত কি না।

আমি শুধু জানতে চাই, মেয়েটি মা হতে চেয়েছিলো। তাই তিলে তিলে সে কষ্ট সহ্য করেছে। এতদিন খুন করেনি। কিন্তু জন্মের পরপরই বাচ্চাটাকে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখে। এতে আগে থেকে থাকা চাপ, সেই বেড়াজাল, সেই সামাজিক বাস্তবতা তাকে এ কাজে বাধ্য করেছে কি না।

মা হতে চাওয়া অপরাধ নয়। কিন্তু প্রশ্ন যার কারণে এক অনাগত জীবন মেয়েটি এতদিন লালন করেছে, সে বাবা হওয়ার জন্য সাহস দেখিয়েছে কি না। যদি না দেখায় তাহলে অপরাধের ভাগিদার কেন শুধু মেয়েটি হবে?

বাচ্চাটিকে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা অবশ্যই অপরাধ। এ লুকিয়ে রাখার কারণে বাচ্চাটি মারা গেছে। তবে তার চেয়ে বড় অপরাধ যে বা যে ‘দর্শন’ তাকে এ কাজে শেষ বেলায় গিয়ে বাধ্য করেছে। হল প্রশাসনকে না জানানো অপরাধ, তবে সবচেয়ে বড় অপরাধী যে বা যে বাস্তবতা তাকে ‘না জানানোর’ দীক্ষা দিয়েছে, চাপ দিয়েছে।

গণমাধ্যম ব্যস্ত মেয়েটিকে নিয়ে। অথচ ব্যস্ত হওয়া দরকার ছিল ‘কারণগুলো’ নিয়ে। তদন্ত কমিটি হয়েছে। আশা করি, বাধ্যকারী ব্যক্তি আর ‘দর্শনকেই’ বেশি খুঁজবে কমিটি।

এসব ঘটনায় আমরা একতরফা মেয়েদেরকেই নাস্তানাবুদ করতে থাকি বলেই লজ্জা, অসহায়ত্ব আর সমাজচিন্তার আঘাতে মৃত্যু হয় অগণিত শিশুর।

রাস্তায়, ডাস্টবিনে পড়ে থাকে নিষ্পাপ শিশুর লাশ...

শুধু মেয়েটি নয়, আমি, আপনি, সমাজ সবাই হয়ে উঠি বীভৎস খুনী....

লেখক: প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু
  • ১২ মে ২০২৬
বিআরটিএর নম্বর প্লেট-আরএফআইডি ব্যবহারের নির্দেশ, আগামী সপ্ত…
  • ১২ মে ২০২৬
ঢাকাসহ দুই জেলায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ
  • ১২ মে ২০২৬
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
  • ১২ মে ২০২৬
পরিবারের প্রতি ‘ক্ষোভ’ থেকেই মাকে হত্যা, আদালতে সেই ছেলের স…
  • ১২ মে ২০২৬
বোরহানউদ্দিনে মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9