নৈতিকতা আর শালীনতায় প্রতিষ্ঠিত হোক নারীসমাজ

০৮ মার্চ ২০১৯, ১১:০৬ AM
সৌম্য সরকার

সৌম্য সরকার © টিডিসি ফটো

কয়েকদিন থেকেই ভাবছি নারী দিবস নিয়ে কিছু লিখবো। কিন্তু শুরুটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যাইহোক ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিবসকে উপপাদ্য বানিয়েই কিছু লেখবো। এটা ভেবেই লেখা শুরু করলাম। আমি আসলেই জানিনা নারী দিবসের লেখা কি রকম হতে হয়। নারীর ভালোবাসা আর তীব্র বন্ধন বিমোহিত করে রেখেছে আমায়। আমার জীবনে নারীরা কখনো মা হয়ে এসেছে কখনো বোন আর কখনো বা বন্ধু হয়ে। তাদের প্রতি আমি আজীবন ঋণী।

আজ ৮ই মার্চ; আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কথা হচ্ছে নারীকে নিয়েই। দিনবদলের এই ক্ষণে আলোচলার মূল বিষয়বস্তু এখন নারী। নারীর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ এবং শহুরে মানুষের কর্ম ও জীবনধারা। সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখছে নারীরা। নারী যাতে তাদের প্রয়োজনীয় অধিকার ফিরে পায় সে নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন মানবাধিকার এবং নারীবাদী সংস্থা। নারী দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন খোদ রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু ভাবার বিষয় হচ্ছে যে, এই নারীরা কি তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে? সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে তাদের মর্যাদা কি প্রতিষ্ঠিত? বন্ধ হয়েছে কি তাদের উপর যৌন হয়রানী? থামছে কি তাদের উপর নির্যাতন? আজ তাকালে দেখা যাবে সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক জায়গায় নারীরা অবস্থান করছেন। নারীরাই চালাচ্ছেন প্রশাসন এমনকি সংসদও। কিন্তু তারা কি তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছেন? বন্ধ করতে পেরেছেন যৌতুক নামের অভিশাপ? পারেনি। কারণ, সমাজে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অধিকারের কথা বলে তাদেরকে দিয়ে বানানো হচ্ছে ওপেন পর্ণগ্রাফী। চকলেট, সাবান, শ্যাম্পু, কনডম আর বিস্কুটের প্যাকেটে তাদের ছবি দিয়ে করা হচ্ছে মার্কেটিং। বিভিন্ন সময়ে সুন্দরী প্রতিযোগীতার নামে নারীদেরকে নগ্ন করে বানানো হচ্ছে পুরুষ সমাজের কামনার বস্তু।

মা, বোন আর কন্যা সন্তানের এই জাতিকে সমান অধিকারের নামে অবাধ মেলামেশার সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটছে এক শ্রেণীর পুরুষ। আসলে কি সমান অধিকারটা এমন? সমান অধিকার মানে কি আমার মা, আমার বোন, আমার কন্যা সন্তান লোকের সামনে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে নৃত্য দেবে আর মানুষ তা উপভোগ করবে? সমান অধিকার মানে কি ক্যাম্পাসের গলিতে, পার্কের চিপায়, সিনেমা আর নাইট ক্লাবের আড্ডায় কুকুর বিড়ালের মত আচরণ করা? এই কি তবে নারীর অধিকার?

নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পরিবারে সাজানো হয় উপঢৌকন, খাতির করা হয় অফিস কাছারিতে, পোশাকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাড়! বের করা হয় নানা ডিজাইনের বেহায়াপনা আর পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণকারী জিন্স আর জামদানী। এভাবেই কেটে যায় নারী দিবসের এই দিনটি। অথচ এসবের আয়োজকেরা সারাবছর নারীদের কোন খোঁজ রাখে না এমনকি পাত্তাও দেয় না। নারী অধিকারের নামে যারা আজ গলা ফাটাচ্ছে দেখা যাবে তাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ব্যাক্তিগত কক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে এই নারীকে। বানানো হয়েছে ভোগ্য বস্তু। নিজের কামনা আর বাসনা পূরণ করতে তারাই আবার এই নারী জাতিকে যৌন হয়রানি করছে।

পরিবার থেকে রাষ্ট্র সবাই নারী দিবসের আগেরদিন নারীদের দাবী-দাওয়াগুলো নিয়ে অনেক লাফালাফি করে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের এই কথাগুলো সমাজ আর রাষ্ট্রের এক কান দিয়ে ঢুকে আর এক কান দিয়ে বের হয়। আলোচিত নারী দিবসটির সূচনা হয় যে কারণে তার পূর্ণ বাস্তবায়নে কেউ এগিয়ে আসে না।

নারী দিবসের ইতিহাসে গোড়ার কথাটি হল, শ্রমিক নারীর কাজের সময়, ছুটি, সম্মানজনক বেতনের দাবিতে আন্দোলন। ১৮৫৭-র ৮ মার্চ আমেরিকার বস্ত্রশিল্পের নারী শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে লড়াই পশ্চিমি দুনিয়ায় আলোড়ন তোলে। পরবর্তী কালে যুক্ত হয় মেয়েদের ভোটের অধিকারের দাবি। এই সমস্ত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯১০ সালে কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহিলা সম্মেলনে ৮ মার্চ নারী দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয় এবং ১৯১১ থেকে তা পালন শুরু হয়। ভারতেও পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকে মেয়েদের অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকারের দাবিতে নারী দিবস পালন শুরু হয়। এর পাশাপাশি পণ, ধর্ষণ, মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গার্হস্থ্য হিংসা, পরিবারে মেয়েদের অবস্থান ইত্যাদি বিষয় নারী আন্দোলনের দাবির অন্তর্ভূক্ত হতে থাকে এবং প্রতি বছর এই সব দাবি আদায়ের আওয়াজ তোলা হয় নারী দিবসে।

নারী পুরুষের বৈষম্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সূচকে যে হতাশাব্যঞ্জক চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে। রাষ্ট্র ও সরকার আন্তরিক হলে এর একটা সন্তোষজনক উন্নতি হয়তো সম্ভব। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তাসহ শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর শালীনতাসহ অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠবে। কিন্তু শিক্ষার সুযোগ অবারিত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গেলেই যে রাষ্ট্রিক অর্থনৈতিক স্থিতি ও দেশপ্রেমসূলভ নৈতিক উদার মানষিকতার প্রয়োজন সেই ভিত্তিটুকুর দিকে আমরা কি কখনো দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছি বা করি?

সৌম্য সরকার
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

ট্যাগ: মতামত
গলায় লিচুর বিচি আটকে শিশুর মৃত্যু
  • ১২ মে ২০২৬
বিআরটিএর নম্বর প্লেট-আরএফআইডি ব্যবহারের নির্দেশ, আগামী সপ্ত…
  • ১২ মে ২০২৬
ঢাকাসহ দুই জেলায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ
  • ১২ মে ২০২৬
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
  • ১২ মে ২০২৬
পরিবারের প্রতি ‘ক্ষোভ’ থেকেই মাকে হত্যা, আদালতে সেই ছেলের স…
  • ১২ মে ২০২৬
বোরহানউদ্দিনে মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9