আমি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মনোনয়ন গ্রহন করি। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য আমাকে বিভিন্ন সময় খোঁজ করা হয়। এ দিকে ২ মার্চ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ০১ মার্চ রাত ৮.৪৫ মিনিটের দিকে আমার বর্ষের তিনজন বইমেলায় গিয়ে আমার সাথে এটাসেটা কথা বলে। আমি তাদেরকে দেখেই বুঝে নেই যে তারা আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে। আমি তাদেরকে বলি, ‘তোমরা যেতে পার, আমি পালাব না। আজ হলেই থাকব।’ ওরা আড়ালে চলে আসে এবং গতিবিধি লক্ষ্য করে। ভিসি চত্বর পেড়োনোর পর তাদেরকে আবার পিছনে দেখতে পাই। আমি আর আমার বন্ধু ফাহিদ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলাম কি করব। তখন সেই তিনজনের মধ্যে একজন তুহিন ফোন দিয়ে আরও কয়েকটা ছেলেকে আসতে বলে। এ দিকে আরিফ ভাই সৈকতকে বারবার ফোন দিয়ে যাচ্ছিলেন। সৈকত আরিফ ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য আমার কাছে মোবাইল দেয়। আমি কথা বলি।
আরিফ ভাই বলছিলেন, ‘এসো, মিসাদ আর তোমার মধ্যে আলাপ আলোচনা করো।’ আমি মেনে নিই। সাড়ে নয়টার দিকে আমি ওরা তিনজনসহ ১১১ নং রুমে আসি। এসেই দেখতে পাই ভিতরে বসে আছেন অনিক ভাই, মোজাহিদ ভাই, আরিফ ভাই এবং আমার প্রতিযোগি প্রার্থী মিশাদ ভাই। প্রথমে আরিফ ভাই কথা শুরু করেন। কেন আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি জানতে চান। আমি বলি, ‘আমি তৃতীয় বর্ষে পড়ি। অথচ আজও আমি আমার বৈধ সীট পাইনি। আমার বন্ধুরা অনেকেই পায়নি। ১বর্ষ, ২য় বর্ষ সবাই বারান্দায় থাকে। আমি আমার এবং সকলের অধিকার আদায়ের জন্য প্রার্থীতা করব। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে পছন্দ করি। কিন্তু সেটা হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগ।’ আমি এসব লজিকাল কথাবার্তা বলছিলাম। উনারা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। প্রথমেই আমাকে চড় মারেন অনিক ভাই। তারপর তুই শিবির বলে আমার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়।
আমি লক খুলতে চাইনি। আমাকে চড় মেরে লক খুলতে বাধ্য করেন মোজাহিদ ভাই ও আরিফ ভাই। আমার মেসেঞ্জারের চ্যাটলিস্ট, ফেইসবুক গ্রুপ ইত্যাদি চেক করেন। আমি বারবার বলতে থাকি, ‘আপনারা আমার মোবাইল চেক করতে পারেন। তবে সেটা হল প্রভোস্ট কিংবা হল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে করা হোক।’ আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলাম। আমার পরিবার, দাখিল মাদরাসা, আলিম মাদরাসা প্রত্যেকটাই শিবির বিদ্বেষী। আপনারা তথ্য, প্রমাণ নিন। জানুন আমার সম্পর্কে। বারবার মানা সত্ত্বেও আমার মোবাইল চেক করতে থাকেন। তারপর ২/৩ টি মোবাইল দিয়ে আমার ফেইসবুকে ঢুকেন। আমি প্রত্যেকবারই আমার পাসওয়ার্ড দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করি। আমাকে মেরে বাধ্য করা হয়। তখন মিশাদ ভাই উত্তেজিত হয়ে আমার কান মলেন। আমার স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন গ্রুপ এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক সংঘের বিভিন্ন গ্রুপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। আমার বাড়ির মোবাইল নাম্বার চান। আমি দিতে না চাওয়াতে আমাকে মেরে বাধ্য করা হয়। এভাবে চলে রাত ১টা পর্যন্ত। তখন এই রুমে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এই রুমে তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রও ছিলেন। তার নাম সম্ভবত মিলু।
রাত ১টার দিকে আমি দেখতে পাই ওরা এগ্রেসিভ হয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি প্রত্যাহার করার কথা বলি। তারপর আমাকে ১১৭ নং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে মিশাদ ভাই, মিলুসহ কয়েকজনের প্রহরায় আমাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। পরদিন সকাল ৭টার দিকে আমাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় ১৭৪ নং রুমের পাশে এক খুপড়িতে। সেখানে আমাকে প্রত্যাহার পত্র লিখতে বাধ্য করা হয়। আমি লিখি এবং স্বাক্ষর করি। সকাল ১০টায় আমাকে কড়া প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় হল অফিসে। আমি প্রত্যাহারপত্র জমা দিই।
১০টার কিছু পরেই হল প্রভোস্ট মাহবুবুল আলম জোয়ারদার স্যার অফিসে আসেন। আমি উনার কক্ষে যাই। আমার সাথে গতরাতে যা হয়েছিল সব বলি। প্রভোস্ট স্যার ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে মনোনীত জিএস জুলিয়াস সিজার ভাইকে ডাকেন। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। জুলিয়াস সিজার ভাই ঘটনা শুনেছেন এবং তদন্ত করবেন বলে জানান। তারপর প্রভোস্ট স্যার আমার লিখিত প্রত্যাহারপত্র নিজহাতে ছিড়ে ফেলেন। আমি আমার প্রার্থীতা ফিরে পাই। আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় জুলিয়াস সিজার ভাইকে। এরপর বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া আসে। আমি কথা বলি।