কোচিং ‘বাণিজ্য’ ও বাস্তবতা

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৭ PM

© ফাইল ছবি

নিজের কন্যাসহ বাচ্চারা যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ‘সোহাগ ভাইয়া’ ডাকে তাতে আমি বিস্মিত। এরা তাকে দেখেওনি কখনও। কিন্তু, তারা জানে এই ‘সোহাগ ভাইয়ারা’ তাদের একাডেমিক শিক্ষায় কতোটা ভ্যালু অ্যাড করেছেন! আগেই কোচিং বাণিজ্য-কোচিং বাণিজ্য বলে হইচই শুরু করবেন না, প্লিজ।

বাজার ব্যবস্থায় ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাই নিয়ে ক্রিয়েটিভ লোকেরা আপনার সামনে পণ্য বা সেবা নিয়ে উপস্থিত হবেনই। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মতো শিক্ষাও এর বাইরে থাকবে না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং কেন দরকার, সেটা নিয়ে একশ একটা কারণ বলা যাবে। এখানে শুধু একটা কারণের কথা বলি: আমাদের স্কুলগুলোতে বছরে ক্লাস হয় কতোদিন?

বায়ান্ন দু’গুণে একশ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি। বাকি থাকলো দুইশ ষাট দিন। ডিসেম্বর মাসে ফাইনাল এক্সাম, মানে আরো এক মাস বাদ। থাকলো দুইশ ত্রিশ দিন।
রমজানে ছুটি থাকে এক মাসের বেশি। মানে রইলো দুইশ দিন। বছরে দুইটা টার্ম পরীক্ষায় আরো এক মাস ক্লাস হয় না। তাহলে থাকে একশ সত্তর দিন। সামার ভ্যাকেশন, ঈদ-উল-আযহা, দুর্গা পূজা এরকম ছুটি থাকে এক মাসের মতো। সেক্ষেত্রে রইলো একশ চল্লিশ দিন। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা কারণে ক্লাস প্রায় হয়ই না বলতে হয়। এছাড়াও আরো কিছু ছুটি-ছাটা থাকে। এসব মিলিয়ে এক মাসের বেশি বাদ গেলে ঠিকঠাক ক্লাস হয় একশ দিন।

এখন বাচ্চাদের যে পাঠ্যসূচি, সেটা একশ দিনের না। কিন্তু, ফাইনাল এক্সাম হয় পুরো সিলেবাসে। মানে ক্লাসে যাই হোক, একটা বাচ্চাকে পুরো বই জেনে-বুঝেই পরীক্ষায় বসতে হয়। সেটা পিইসি/জেএসসির মতো পরীক্ষা হলে আরো জটিল অবস্থা। বাচ্চাদের তাহলে পুরো সিলেবাসটা বুঝিয়ে শেষ করবে কে? নিজে পারলে খুবই ভালো, পরিবার করে দিতে পারলেও ভালো। যাদের সেটা সম্ভব না, তারা কী করবে? তাদের কাছে বিকল্প একটাই: কোচিং বা প্রাইভেট টিউশন।

সেটা না চাইলে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে, একশ দিনের মতো সিলেবাস করতে হবে, একজন শিক্ষক যে পরিমাণ শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে পাঠদান করতে পারেন শ্রেণিকক্ষে শুধু ওই পরিমাণ শিক্ষার্থী থাকতে হবে, এজন্য নতুন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, উপযুক্ত বেতনে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, রেজাল্টভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবস্থা বদলাতে হবে। তা না হলে পরীক্ষায় ভালো করার জন্য বাচ্চাদের বুঝে-শুনে সিলেবাস শেষ করতে কোচিং সেন্টারে যেতেই হবে। এখানে বাণিজ্য-বাণিজ্য বলে চীৎকার করে লাভ নেই। ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাই থাকবেই। ইট ইজ দ্যাট সিম্পল। ব্যবস্থা না বদলালে অনুষঙ্গ বন্ধ করা যাবে না।

এখন কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ, সেটা ফৌজদারি অপরাধ। দুয়েকটা কোচিং সেন্টার যে সেটা করে না, তা বলা যাবে না। কিন্তু, এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকার ও রাষ্ট্রের। বাস্তব কারণে বাংলাদেশে কোচিং একটা উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে। যদি এটা ৩২ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি হয়, তাহলে এখানে কতো মানুষ এবং কতো পরিবার জীবন ধারণের জন্য নির্ভর করে, সেটাও বুঝতে হবে।

কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে বলে সুশীল সাজা যাবে, কিন্তু বাস্তবতা থেকে থাকতে হবে অনেক দূরে। এ সুশীলদের বেশিরভাগের বাচ্চারা অবশ্য উচ্চ বেতনের স্ট্যান্ডার্ড ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়া করে, কোচিংও করে। সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না, কারণ সেটা চেক দেয়ার ব্যবস্থা সেখানে আছে। সেই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাটা এখানে করতে বাধা কোথায়?

লেখক: সাজিদ আহমেদ রাকিব, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা।

ডুয়েটে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, জেনে নিন আবেদনের খুঁটিনাঁটি
  • ১২ মে ২০২৬
৩০ জুনের মধ্যে ভূমি কর দেওয়ার নির্দেশ সরকারের, অনলাইনে পরিশ…
  • ১২ মে ২০২৬
কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল মাদ্রাসা বোর্ড
  • ১২ মে ২০২৬
একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই
  • ১২ মে ২০২৬
সারাদেশের ভূমি মালিকদের জরুরি নির্দেশনা দিল সরকার
  • ১২ মে ২০২৬
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে ২ বাংলাদেশি নিহত
  • ১২ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9