উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে মানসিকতার উন্নয়নও প্রয়োজন  

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:৩১ PM

© ফাইল ফটো

জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করার সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন সম্প্রতি সময়ে ভাল গতিতে চলছে তা ডানা মেলা সেতু ও ঢাকার ফ্লাইওভারগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তবে আমাদের এখন নজর দেওয়া প্রয়োজন বাঙালি জাতির মানসিক উন্নয়নের প্রতি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এই সড়ক, উড়ালসড়ক ও সেতু দিয়ে যেন সবাই নিরাপদে চলতে পারে, রাস্তার ফুটপাথে যেন মানুষ শুয়ে না থাকে। কল্যাণকর অর্থনীতির দিকে যেন আমরা যেতে পারি, সংবিধানে উল্লেখ করা মৌলিক অধিকারগুলো যেন নিশ্চিত করা যায়। ধনীর টাকার পাহাড়ের একটু অংশে যেন গরীবের উন্নয়ন হয় সেই মানসিকতাটা দরকার।

মানুষ যেন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে সরকার চাকরী দেবে এটা দাবী করিনা বরং সবাই যেন সহজভাবে ও নিশ্চিন্তে তার বৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে সে রকম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। 

আমাদের বাসায় একজন মহিলা কাজ করত। আরও অনেক বাসায় কাজ করে টাকা জমিয়ে গ্রামে গিয়ে মাছ চাষ শুরু করে সে। মাছের খাবার কিনতে ধার-দেনাও করতে হয়েছে। কিন্তু মাছগুলো বড় হওয়ার পর কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করায় তার সব পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যায়।  সে আবার ঢাকায় ফিরে আসে। 

কিছুদিন আগে পেপারে পড়লাম একজনের শতাধিক মুকুল ধরা আমের গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা । শত্রুতার জেরে ফলবান কলাগাছ কেটে ফেলা, মুরগীর খামারে আগুন দেওয়া, মাছের পুকুরে বিষ দেওয়া এদেশে সাধারণ ঘটনা । চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়ে আনন্দ পায় অনেক কিশোর যুবক।

জাতির মানসিকতা উন্নত করার জন্য ছোটবেলা থেকেই নীতিবিদ্যা শেখাতে হবে। শিক্ষা লাভ করে সবাই বিজ্ঞানী, ডাক্তার, অফিসার হবে সেটা চাইনা, আমরা চাই সবাই যেন শিক্ষা লাভ করে ‘মানুষ’ হতে পারে। 

বঙ্গবন্ধু লিখে গেছেন পরশ্রীকাতরতা আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে । দুবছর দায়িত্বে থাকার পরও ১৯৭৪ এর এক ভাষণে তিনি এই জাতিকে ঘুণে ধরা বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং পাকিস্তানীদের যেভাবে আঘাত করেছিলেন ঠিক একইভাবে এই ঘুণে ধরা সমাজকে আঘাতের কথা বলেছিলেন।  আফসোস, সেই সময় তিনি পেলেন না।  সেই ঘুণে ধরা জাতি ৭৫ এর পরে আজ কোথায় গেছে সেটা সচেতন ব্যক্তিমাত্র অনুধাবন করতে পারবে।  এখন কাঠের থেকে ঘুণ বেশি।

এখন এই বিষয় নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকারীভাবে গণশিক্ষা প্রকল্পের মত নৈতিক শিক্ষা সর্বস্তরে চালু করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে ।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের হয়ে মাঠে নামতে পারতেন রোনা…
  • ২৯ জুন ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় কানাডা
  • ২৯ জুন ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শাকিল, সম্পাদক…
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি যেভাবে বদলে দিয়েছেন জাপানি ফুটবল
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিল ম্যাচের আগে জাপানের বড় চিন্তা একটাই
  • ২৯ জুন ২০২৬
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বিএম কলেজে আটক শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি 
  • ২৯ জুন ২০২৬