কেএফসির মালিক কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স। সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে বেছে নিয়েছিলেন আত্নহত্যার পথ। ৬০ বছর বয়সেও তিনবেলা খাবার জোটানোই তাঁর জন্য অসাধ্য ছিল। নাহ, শেষ মুহুর্তে তিনি ফিরে আসলেন। জীবনকে ভালবেসে নিজের মতো করেই সাজালেন। কোটি কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিলেন তার তৈরি রেসিপি কেএফসি। এরপর বাকিটা ইতিহাস...
বিশ্বখ্যাত পপ গায়িকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন কেভিন ফেডেরলাইনকে। এরপর দুজনের মাঝে মনোমালিন্য। অবসাদ থেকে সিদ্ধান্ত নেন আত্নহত্যার। কয়েকবার চেষ্টাও চালান। অবশেষে তিনি বুঝলেন আত্নহত্যা নয়, নিজেকে প্রমাণের মাঝেই সবকিছুর সমাধান। নিজেরে সুরের মূর্ছনায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। এখনও শিউরে উঠেন সেই আত্নহত্যার সিদ্ধান্তের কথা ভেবে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের সর্বজয়ী দলের অধিনায়ক ব্র্যাড হজ। আত্নহত্যা করতে উচু ভবনের ছাদে গিয়ে বসে থাকতেন। বেশ কয়েকবার চলে গিয়েছিলেন উচু পাহাড়েও। নাহ, এরপর ফিরে এসেছেন। চান্স পেয়েছেন দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দলে। অপরিহার্য খেলোয়ার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার।
গত সাত বছরে কেবল বাংলােদেশই ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন আত্নহত্যা করেছেন। আপনিও চাইলে হয়তো সাময়িক বিষন্নতায় ভুগে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। এরা প্রায় সবাই বয়সে তরুণ। ১৮ থেকে ত্রিশের মধ্যে। সারা বিশ্বের হিসেবে প্রতিবছর ৪০ লাখ টিনেজার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এদের মধ্যে এক লাখ আত্মহত্যা করেন। বিষন্নতা, ক্যারিয়ার, প্রেমে ব্যর্থতা, প্রতারণা; মোটাদাগে এগুলোই আত্নহত্যার কারন।
একটি মৃত্যুই কি সব সমস্যার সমাধান। সমাধান নয়, উল্টো অনেকগুলো সমস্যা তৈরি করে। যদি ভেবে থাকেন আপনি মরে গেলে শুধু আপনিই বেঁচে গেলেন, তবে ভুল! আপনার মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই হয়তো মরে যাবে আপনার পরিবার, মরে যাবে আপনজনেরা। ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন, ৬০ বছর বয়সেও জীবনযুদ্ধে নেমে কেএফসি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সারা জীবন ব্যর্থ হয়েও শেষ বয়সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন আব্রাহাম লিংকন। আত্নহত্যা একটি মানসিক ব্যাধি। অনেক যশ খ্যাতি সম্পন্ন মানুষরাও আত্নহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে আপনি কেন ক্যারিয়ারের ভাবনায় আত্নহত্যা করবেন। যুদ্ধটা শুরু করুন..ব্যাধিটা সারিয়ে ফেলুন নিজের চেষ্টায়।
দীর্ঘ চেষ্টায়ও মিডিয়ায় ক্যারিয়ায় দাড়ায়নি আপনার। চেষ্টা করে যান। জীবনের মানে কেবল অল্প বয়সেই সফলতা নয়। মেরিলিন মনরো, কার্ট কোবেইন, দিব্যা ভারতী, সালমান শাহ, জিয়া খান, মিতা নূর-এরা সবাই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কেউ পশ্চিমা মিডিয়া, কেউবা ভারতের আর কেউ কেউ আমাদের দেশেই ছিলেন মহাতারকা। এদেরতো তারকাখ্যাতির কমতি ছিলনা। এরপরেও এরা বেছে নিয়েছে আত্নহত্যার পথ। মূলত এরা আত্নহত্যা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যারা ব্যাধিকে সারাতে পেরেছে তারাই বিশ্বজয়ী হয়েছে। নিজের ভাবনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
খুব ভালবাসতেন একজনকে। তাকে ছাড়া আপনার চলবেই না। একটু খেয়াল করে দেখুন....দশ বছর আগেও কাউকে এমন ভালবেসেছিলেন। এখন মনেও পরেনা। হয়তো ভাবছেন রিলেশনটা এখন থাকলে কতবড় ভুলটাই না করতেন। অথচ তখনও ঠিক এমনটিই মনে হয়েছে, ওকে না পেলে মরে যাওয়াই ভালো। ভালোবাসা একটি মোহ..জাস্ট মোহটা কাটাতে হবে। তবেই অপার সম্ভাবনায় নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন। অথবা এমনটি হতে পারে, আপনি ভুল মানুষকে ভালোবেসেছেন। বুঝতেই পারেননি আপনাকেও কেউ লুকিয়ে ভালোবাসতো। হারানোর ভয়ে হয়তো কখনো বলতেই পারেনি যে সে আপনাকে ভালোবাসে। হয়তো আপনি তার সাথে কথা না বলে সময় দিয়েছিলেন সেসব অমানুষকে, যাদের কারণে আজ আপনি আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে চাচ্ছেন।
আপনি ব্যর্থ হলেন। প্রতারণা বা অবহেলার শিকার হলেন। এর মানে আপনাকে জীবন দিয়ে তার প্রায়শ্চিত করতে হবে? ভুল! বরং এটাকে শিক্ষা হিসেবে নিতে হবে। নতুন করে ভাবতে হবে ত্রুটিগুলো। এরপর রচনা করুন আবার সফলতার পংক্তিমালা । নিজের জীবনকে হনন নয়, নতুন করে সাজাতে শিখুন। একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলো মানে অনেকগুলো পথ খুলে যাওয়া। এটাই চিরায়ত নিয়ম। আর সফলতার জন্য সেই পথগুলোকেই খুঁজে বের করতে হবে। নিজের উপর আস্থা রাখুন। ধৈর্য আর সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস রাখুন।
লেখক : সাংবাদিক, দৈনিক আমাদের সময়; সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি।