তরুণদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উপায়

২৮ মে ২০২৩, ০২:৫২ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM
ড. মো: শফিকুল ইসলাম

ড. মো: শফিকুল ইসলাম © সংগৃহীত

দেশব্যাপী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শিগগিরই শুরু হবে। প্রতি বছর প্রায় বার চৌদ্দ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। পরীক্ষা ফলাফল দেওয়ার পর শুরু হয় ভর্তি যুদ্ধ। এখন আগের বছর পাশ করা শিক্ষার্থীরা স্নাতক কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীর অভিভাবক এমন কি নিকট স্বজনেরাও চিন্তায় থাকে তাদের ছেলে-মেয়েরা কীভাবে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে।

বিজ্ঞান নিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বপ্ন থাকে দেশের বুয়েট, মেডিকেল, ঢাকা তথা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটাই মুখ্য বিষয়। আবার কিছু কিছু অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে যারা স্নাতক পর্যায়ে বিদেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার স্বপ্ন দেখে।

চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস উল সিফাত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার আগেই বিশ্বের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়—এমআইটিতে স্নাতক কোর্সে চান্স পাওয়ার বিষয়টির দিকে তাকালেই আমরা সহজেই তা বুঝতে পারি।

তাহলে বুঝা গেল মেধা, দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান থাকলে তা প্রমাণ করতে পারলেই কেবল স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে কেবল পরীক্ষার ফলাফলই আসল নয়। স্নাতক পর্যায়ে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ভাগ্যবান শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই অল্প।

কেননা স্নাতক পর্যায়ে প্রতিটি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণত শতকরা দশভাগ আসন থাকে। তার মধ্যে আবার সকলের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা থাকে না। স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তির বিষয়ে এ ধরণের কোনো বাধা-ধরা নিয়ম নেই। এই ক্ষেত্রে মূলত: মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানই আসল, পরে তারা অঞ্চল, জেন্ডার ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনায় আনে।

বিগত এক যুগ ধরে এমআইটি বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অক্ষর রেখে চলছে। এখানে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়া পৃথিবীর সকল মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বপ্নে বিভোর থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষতা ও সহশিক্ষাকার্যক্রমেও তাদের ঈর্শনীয় অর্জন থাকতে হয়। আমার জানা মতে এখানে যে পাঁচজন বাংলাদেশী স্নাতক শ্রেণীতে পড়ছে নাফিস যেমন আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াড ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে তেমনি তারাও কেউ না কেউ আন্তর্জাতিক গণিত,পদার্থ কিংবা জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় কিছু না কিছু পেয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: তুরস্কে বিনামূল্যে এক সপ্তাহের ইন্টার্নশিপ, আবেদন শেষ ১০ জুন

অপর দিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে এমআইটিতে পড়ছে মাত্র তেরজন। বেশিরভাগই বুয়েট থেকে পাশ করা। শিক্ষার্থী এবং সকলই বুয়েটের তরুণ শিক্ষক। বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন এমআইটি, ক্যালটেক, হার্ভাড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, কেমব্রীজ, প্রিন্সটন এ স্নাতক কোর্সে ভর্তির শতকরা হার সাধারণত ৫-৭ ভাগের অধিক নয়। তবে ব্রান্ডের কারণে এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার চান্স তুলনামূলকভাবে কিছুটা কঠিন ও অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক।

এমআইটিতে একটি ভর্তি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। একক কোনো শিক্ষক তাঁর পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষার্থী নিতে পারেন না। শিক্ষার্থী আবেদন করার পর কমিটি কর্তৃক পুংখানুপুংখভাবে যাচাই- বাচাই করার পর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলে পরে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে তার পড়ার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কী ধরণের গভীর জ্ঞান রাখে সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করে।

সবশেষে শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করতে পারে এখানে চান্স পেলে পাশ করার পর নিজেকে কোথায় এবং কিভাবে দেখতে চায়? স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তরে চান্স পেলে একটা না একটা বৃত্তির ব্যবস্থা হয়েই যায়। এমআইটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে যেমন পড়াচ্ছে তেমনি সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক বিজ্ঞানেও এখানে শিক্ষার্থীরা পড়ছে। তবে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা মানুষের দোরগোড়ায় নিতে যে সকল অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা দরকার সেইগুলোকেই এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সেই জন্যই এখানে পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা এবং অর্থনীতিতে ভুরি ভুরি নোবেল বিজয়ী শিক্ষক আছেন। বুয়েট কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শুধু প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়ানো হলে এমআইটিতে এতো নোবেল পেতো না এবং বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারত না।

এমআইটিতে সকল শিক্ষার্থীই সেরা। সেরা না হলে এখানে টিকে থাকতে পারবে না। একবার স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে পারলে সকলেই যে অনায়াসে মাস্টার্স কিংবা পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে তা কিন্তু নয়। অনেকে আবার ঝরে পড়ে। যারা ঠিকতে পারে তাদেরকে আবার পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলেই কেবল পরবর্তী কোর্সে ভর্তি হতে পারবে। এই ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোর্সে ভালো ফলাফলের সাথে পড়াশুনা এবং গবেষণা করার বিষয়ে অভূতপূর্ব প্রস্তাব, তত্ত্বাবায়কের স্বহস্তে লিখিত নিখুঁত সুপারিশ পত্র এবং তাকে চিনে এই রকম আরও দুইজন শিক্ষকের প্রকৃত মূল্যায়ন পত্র লাগবে।

উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সুপারিশ পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গতানুগতিকভাবে লিখে সুপারিশ পত্র দিলে হবে না। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে সত্যিকারের মেধা, জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, গবেষণা করার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বদানের গুণাবলী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সফলতা ইত্যাদি বিষয়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। তিনজনের সুপারিশপত্র অনেকটা একই রকম কিংবা দায়সাড়া গোছের হলে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এমআইটিতে পড়াশুনা ও গবেষণার বিষয়ে আমার উপলব্ধির কথা বললে বলব তাত্ত্বিক জ্ঞানের গভীরতার সাথে প্রায়োগিক সম্পর্কটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়োগিক ধারণা তৈরি করার জন্য প্রচুর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় অ্যাসাইনমেন্টগুলো সমাধান করতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব দর্শন, উপলব্ধি, স্বকীয়তা ও যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করতে হয়। ইন্টার্নশীপের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাস্তব সমস্যার সাথে পরিচয় করে নেওয়া হয়।

এখানে শিক্ষার মূলনীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য করে তোলা। এখানে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপেল, গাড়ী নির্মাতা, বায়োটেক ও মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সকল প্রযুক্তির জায়েন্ট কোম্পানিগুলো এমআইটির সাথে নিবির সম্পর্ক রেখে কাজ করে।

এমআইটি থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের চাকুরীর জন্য ঘুরতে হয় না বরং চাকুরী দাতারাই তাঁদেরকে খোঁজে। তবে তরুণদের উদ্দেশ্যে আমি বলব "যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে হবে হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে" এই লাইনটুকুর চেতনাবোধ যদি হৃলদয়ের গহীনে সব সময় লালন ও ধারণ করা যায় তাহলে বিজয় ধরা দিবেই।

লেখক: ভিজিটিং অধ্যাপক ও ফুলব্রাইট স্কলার, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে, যুক্তরাষ্ট

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানব…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
মব সৃষ্টি করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরে ঢুকে মারধর, ৮ কর্মক…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা করে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পে …
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও কোটায় বিসিএস, ২১ জনের বিরুদ্ধে…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটকে হতাশায় ডুবিয়ে ফাইনালে রাজশাহী
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানকে কটূক্তি, গ্রেপ্তার ১
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬