একই রায়ে একদল চাকরিতে, অন্যদল বেকার—১৩তম নিবন্ধনে বৈষম্যের অভিযোগ

০৩ মে ২০২৬, ০৫:২৮ PM
এনটিআরসিএ

এনটিআরসিএ © ফাইল ছবি

একই আদালতের রায়, একই ব্যাচ, একই যোগ্যতা; তবুও ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনের রিটকারীদের একটি গ্রুপ চার বছর ধরে চাকরি করছেন, আরেকদল এখনও নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। আদালতের রায় থাকার পরও নিয়োগ না হওয়ায় চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

ভুক্তভোগী নিবন্ধনধারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সংযুক্ত ধারা ১০ (ঝ) অনুযায়ী শূন্য পদের সাপেক্ষে প্রার্থীদের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহনের আহবান জানানো হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির আলোকে সর্বমোট ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৪ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রিলি, রিটেন, ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে শূন্য পদের সাপেক্ষ অনুযায়ী মাত্র ১৭ হাজার ২৫৪ জন প্রার্থী চূড়ান্ত উত্তীর্ণ হয়। সরাসরি শূন্য পদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লখ থাকলেও এনটিআরসিএ উত্তীর্ণ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ প্রদান না করলে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ ১৭ হাজার ২৫৪ জনের মধ্যে ২২০৭ জন সংক্ষুব্ধ হয়ে শূন্য পদের আলোকে নিয়োগ চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের সরাসরি নিয়োগ প্রদানে নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখেন। 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩১ মার্চ তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে শূণ্য পদে ২২০৭ জনের জন্য বিশেষ পদ সংরক্ষণ রাখা হয়। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি ২২০৭ জন রিটকারীকে শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয়। 

পরবর্তীতে ১৩তম চূড়ান্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আরও ১২০০ জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে, হাইকোর্ট রিটকারীদের ২২০৭ জনের ন্যায় সরাসরি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের রায় দেন। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল আপিল বিভাগও সেই রায় বহাল রাখে। ২০২৪ সালে আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী এনটিআরসিএ রিটকারীদের নিয়োগ প্রদান না করলে কোর্ট অফ কনটেম দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের ৭ মে সেই কোর্ট অফ কনটেম হেয়ারিং-এ আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির ফুল বেঞ্চ হেয়ারিং শেষে কনটেমকারীদের পক্ষে আপিলের রায় থাকার প্রমাণ পেয়ে, সেই রায় বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে পুনরায় নোটিশ জারি করে। তবে সেই নোটিশের জবাব আজও দেয়নি এনটিআরসিএ। ফলে একই ধরনের রায় হলেও ১২০০ প্রার্থী এখনও নিয়োগবঞ্চিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘১৩তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি এখনো আদালতে রয়েছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

বর্তমানে দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও এই প্রার্থীদের নিয়োগ না দেওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এক হাজার ২০০ জনকে দ্রুত নিয়োগ দিলে একদিকে যেমন রায় বাস্তবায়ন হবে, অন্যদিকে শিক্ষক ঘাটতিও কিছুটা পূরণ হবে।

লিটন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘একই রায়ে যদি ২২০৭ জন চার বছর ধরে চাকরি করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন এখনও অপেক্ষায় থাকবো? আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। আমরা নিয়োগ সুপারিশ চাই।’

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘১৩তম নিবন্ধনের ২২০৭ জনকে নিয়োগ দিতে আদালত নির্দেশনা দিয়েছিল, সেজন্য তারা নিয়োগ পেয়েছেন। তবে ১২০০ জনকে নিয়োগ দিতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। আদালতের নির্দেশনা আসলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

আদালত ১২০০ জনকে নিয়োগের রায় দিয়েছিল। সেই রায় না মানায় কনটেম মামলা করা হয়; এমন প্রশ্নের জবাবে মো. মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘রায়ের কাগজগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কাগজপত্র না দেখে আমি কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’

প্রাথমিকে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ১৪৩০০ জনের কাউকে বাদ দেওয়া …
  • ০৩ মে ২০২৬
 প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা শুরু ১০ মে
  • ০৩ মে ২০২৬
ক্রীড়া কূটনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন জাইমা রহমান, যা বললেন ক্রীড়া…
  • ০৩ মে ২০২৬
শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন অনলাইনে
  • ০৩ মে ২০২৬
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব
  • ০৩ মে ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু
  • ০৩ মে ২০২৬