এনটিআরসিএ কার্যালয় © ফাইল ফটো
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ২০০৫ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা হলেও এখনো নিজস্ব ভবন পায়নি। ফলে ভাড়া করা ভবনে তাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর একটি পরিপত্রের মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে প্রভাষক, সহকারী শিক্ষক, প্রদর্শক, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, সহকারী মৌলভী পদে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ পর্যন্ত সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ভবনে। তবে নায়েম ভবনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের তদবির-সুপারিশে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৬ সালে ইস্কাটনের রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ারে অফিস ভাড়া নেয় সংস্থাটি।
২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ারের দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনটিআরসিএ। এ জন্য এনটিআরসিএকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়সীমার মধ্যে প্রতি বছরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে সংস্থাটিকে। চার বছরে কেবল ভাড়া বাবদই ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পরে ২০২০ সালে এক ফ্লোরের অর্ধেক অন্য একটি অফিসকে দিয়ে দেওয়ায় ভাড়া কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে এনটিআরসিএ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ারের দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এনটিআরসিএ। এ জন্য এনটিআরসিএকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়সীমার মধ্যে প্রতি বছরে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে সংস্থাটিকে। চার বছরে কেবল ভাড়া বাবদই ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
২০২০ সালে এক ফ্লোরের অর্ধেক অন্য একটি অফিসকে দিয়ে দেওয়ায় ভাড়া কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে এনটিআরসিএ। এই হিসাবে ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে। গত ৯ বছরে ভবনের ভাড়া দিতে এনটিআরসিএকে গুণতে হয়েছে ২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা বলছেন, এত টাকা ভাড়ায় খরচ না করে অনেক আগেই নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা যেত। এতে দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয় হতো এবং কাজ পরিচালনাও সহজ হতো। তারা বলছেন, ভাড়া ভবনে অফিস থাকার কারণে প্রতিদিন নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। একই ভবনে অন্য অফিস থাকায় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও জায়গার স্বল্পতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটি ভবন দরকার। এজন্য আমরা কথাবার্তা বলছি। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীতে ঠাসা অফিস, নেই পর্যাপ্ত জায়গা
এনটিআরসিএতে বর্তমানে একজন চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব), তিনজন সদস্য (যুগ্মসচিব), একজন সচিবসহ (উপসচিব) ২১ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চেয়ারম্যানের পিএস, অফিস সহায়ক, পিয়নসহ আরও প্রায় ২০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তারা সবাই সংস্থাটির চতুর্থ তলায় বসেন। চতুর্থ তলায় একটি কনফারেন্স কক্ষ এবং অতিথিদের বসার জায়গাও রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যার চেয়ে জায়গা ছোট। ফলে কর্মপরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কর্মকর্তাদের ছোট ছোট কক্ষগুলোতে ফাইলের স্তূপ জমা হয়েছে। এতে যেমন কাজের গতি কমে যাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে ভোগান্তি ও অসন্তোষ।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভেযোগ, যথাযথ অফিস কক্ষ না থাকায় অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি সামলাতেও হিমশিম খেতে হয়। আবার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটা কক্ষের জন্য নির্ধারিত সংখ্যার দ্বিগুণ লোক বসানো হয়েছে। সঠিকভাবে কাজ করার পরিবেশ নেই। অনেক সময় ফাইল খুঁজে পাওয়া বা ঠিকমতো আলোচনা করার সুযোগ থাকে না।’
ব্যাংকে গঞ্চিত ৩০০-৪০০ কোটি টাকা
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সংস্থাটির ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা মজুদ রয়েছে। এই টাকা দিয়ে জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ সবই সম্ভব। এর আগে ভবন নির্মাণের জন্য বছিলা, মিরপুরসহ রাজধানীর একাধিক জায়গা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। ডাকা হয়েছিল প্রোপার্টি ডিলারদেরও। তবুও নানা কারণে জমি ক্রয় কিংবা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
ভবন না থাকা এবং কোটি কোটি টাকা ভাড়ায় খরচ হওয়াকে অনেকেই ‘জনগণের অর্থের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবন না থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির চিহ্ন।
এনটিআরসিএর অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, ভবনের অভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা না গেলে ভবিষ্যতেও একইভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হবে।