বিজয়ের পতাকা যেভাবে পেলো বাংলাদেশ

২৬ মার্চ ২০২২, ০৮:০৩ PM
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা © সংগৃহীত

লাল-সবুজের এই পতাকা শুধু দেশমাতৃকার পরিচয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ ও চেতনা। ছবিতে তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার গৌরবোজ্জ্বল পথ পরিক্রমা।

প্রথম জাতীয় পতাকা
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশের প্রতীক গাঢ় সবুজ রঙ, তার মাঝে বিপ্লবের প্রতীক লাল সূর্য। সূর্যের মাঝখানে সোনালি বাংলাদেশের প্রতীক সোনালি মানচিত্র– বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা ছিল এমন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তা সাত কোটি মানুষকে সাহস জুগিয়েছে।

পতাকার জন্মকথা
১৯৭০ সালের ৭জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে আসবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) একটি কক্ষে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’ সংগঠনের কয়েকজন কর্মী এবং ছাত্রনেতারা পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকার নিউমার্কেট থেকে সবুজ কাপড় কিনে তাতে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনা হয়। লাল বৃত্তের মাঝে মানচিত্র আঁকেন শিবনারায়ণ দাস।

আরও পড়ুন: বিদ্যালয়ের ছাদে উড়ছে ছেঁড়া পতাকা

প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন
১৯৭১ সালের ২মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-র তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব। তার সঙ্গে পতাকাটির নকশা চূড়ান্তে আরো ছিলেন ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ, হাসানুল হক ইনু, ইউসুফ সালাহউদ্দিন আহমেদ, কামরুল আলম খান (খসরু) প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে পতাকা
বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে নিজ বাসভবনে প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই পতাকা ব্যবহৃত হয়।

পরিমার্জিত পতাকা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে চিত্রকর কামরুল হাসানকে পতাকার মাঝের মানচিত্র বাদ দিয়ে মাপ ও রঙসহ নতুন নকশা এবং এর ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধু। সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত রেখে পতাকা পরিমার্জন করেন কামরুল হাসান।

মানচিত্র সরিয়ে লাল-সবুজ
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জাতীয় পতাকা থেকে সোনালি মানচিত্র সরিয়ে ফেলা হয়।এরপর ১৭ জানুয়ারি এই নতুন রূপ সরকারিভাবে গৃহীত হয়। সবুজ রং বাংলার প্রকৃতি ও চিরতারুণ্যের প্রতীক। বৃত্তের লাল রঙ উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতীক।

জাতীয় পতাকার মাপ
১৯৭২ সালে জাতীয় পতাকা বিধিমালা জারি করা হয়। তিন নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ হবে ছয় ফুট। লাল বৃত্ত পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ, অর্থাৎ দুই ফুট। পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে চার ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদবিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্র।

পতাকার রং
বিধি অনুযায়ী, গাঢ় সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকে। পতাকার সবুজ পটভূমি প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট গ্রিন এইচ-২ আর এস ৫০ পার্টস। লাল বৃত্তাকার অংশটি প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ এইচ-২ আর এস ৬০ পার্টস।

মানব পতাকার বিশ্বরেকর্ড
২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭ হাজার ১১৭ জন মানুষ ‘মানব পতাকা’ গঠন করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেই উদ্যোগ।

যানবাহনে পতাকা
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মোটরযান, নৌযান এবং উড়োজাহাজে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা যায়। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বা একই পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক/কনস্যুলার/ মিশনের প্রধান ভ্রমণকালীন মোটরযান ও নৌযানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে পারেন।

পতাকা উত্তোলন দিবস
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীবর্গ, চিফ হুইপ ও পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঐতিহাসিক দিবস, ঈদে মিলাদুন্নবী এবং বিশেষ দিবসে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পতাকা অর্ধনমিত রাখা
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত বিশেষ দিবসে পতাকা অর্ধনমিত থাকে। এক্ষেত্রে খুঁটির ওপর থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নীচে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় পতাকার ওপরে ছাত্রলীগের পতাকা

বিদেশে প্রথম পতাকা উত্তোলন
১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের কলকাতায় তৎকালীন পাকিস্তান উপ-হাইকমিশনে কর্মরত উপ-হাইকমিশনার এম হোসেন আলী প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বিদেশের মাটিতে সেটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন। আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ ১০*৬ ইঞ্চি।

জাতীয় দিবসে পতাকা সেলাইয়ের ধুম
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতীয় পতাকার চাহিদা বাড়ে। ঢাকার মাতুয়াইলে বিভিন্ন কারখানায় দর্জিরা লাল-সবুজ কাপড় দিয়ে বুনতে থাকেন বিভিন্ন আকারের পতাকা। তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি।

মাস্কে পতাকা
করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বানানো মাস্কেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে লাল-সবুজের আবেগ। স্বাধীনতার মাসে চোখে পড়েছে এমন দৃশ্য। এছাড়া বিভিন্ন বিপণি বিতানে ও রাস্তার ধারে ছোট-বড় সবার পোশাকে লাল-সবুজ রঙের প্রভাব দেখা যায়।

লাল-সবুজের বাংলাদেশ
স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাসে পরম মমতায় জাতীয় পতাকা ওড়ান অনেকে। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় লাল সবুজের বাংলাদেশ হয়ে থাক অপরূপ। [সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা]

ওসমান হাদির স্মরণে ঢাবিতে হবে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
টেকনাফের দুটি প্রধান সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র বন্ধ, রাজস্ব হা…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ওয়ার্ল্ড ভিশনে চাকরি, আবেদন শেষ ২০ জানুয়ারি
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
হুমকি-ধমকি মামলায় অব্যাহতি পেলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশের জন্য যে দু’টি বিকল্প জায়…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার চালক নিহত
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9