প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা © ফাইল ছবি
করোনায় নিজের ঘরবন্দি জীবনকে ‘বড় জেলখানায়’ থাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার (১৮ জুলাই) সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আমরা স্থির করেছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে দেশ ডিজিটাল হবে। এটা বলেছিলাম বলেই আজকে বাংলাদেশ সত্যিই ডিজিটাল বাংলাদেশ, আর সে কারণেই… যদিও করোনার কারণে আমি বলতে গেলে একরকম বন্দি জীবন কাটাচ্ছি। আগে ছিলাম ছোট জেলখানায় আর এখন বড় জেলখানায়। কারণ, এই গণভবন থেকে বেরোতে পারিনি। তবে এটা একটু বড় জেলখানা। নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি। কিন্তু আগে তো একটা ঘরে বন্দি ছিলাম। বের হওয়ার উপায় ছিল না। কলাপসিবল গেট দিয়ে বন্ধ করা ছিল।’
এর আগে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পরদিনই আমার সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। এরপর একের পর এক মামলা।বিএনপির সময় মামলা দিয়েছিল ১২টা, তত্ত্বাবধায়ক দিল আরও ৫টা। এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে, কোনো দিনই আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আর আসতে দেবে না। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল।’
অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেশে সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আর তার জন্য এই শুদ্ধাচারের একটি ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে যে জবাবদিহি থাকা উচিত এবং কোন অবস্থায় কী করণীয় এই শুদ্ধাচার নীতিমালার মধ্যে তার প্রত্যেকটি কথাই বলে দেয়া হয়েছে।
‘এর সুফল দেশের কল্যাণে আসবে, দেশের জনগণ এর সুফল পাবে সে চেষ্টাই আমরা চালিয়েছি।’