আজকের দিনটি শুধুই মায়েদের জন্য

০৯ মে ২০২১, ০৮:৫৭ AM
বিশ্ব মা দিবস

বিশ্ব মা দিবস © সংগৃহীত

‘মা’ ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু তার পরিধি অসীম। সবার কাছে এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত যে, মায়ের চেয়ে আপন কেউ নেই। মানুষের খুব প্রিয় অন্য যে কোনো কিছুর সঙ্গে যখন তুলনা আসে তখনো মায়ের সঙ্গেই তা করা হয়। মায়ের আসন সবার ওপরে। দেশ বা নিজের জন্মস্থানকেও মাতৃসম ভাবা হয়। মায়ের জন্য প্রাণ দিতেও পিছপা হয় না মানুষ।

আজ রবিবার বিশ্ব মা দিবস। আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, যার সূত্রপাত ১৯০৮ সালের ৮ মে। সঙ্গে উপহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সাদা কারনেশন ফুল। সমীক্ষা বলছে, বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন অনেক বেশি মানুষ নিজের মাকে ফোন করেন, তার জন্য ফুল কেনেন, উপহার দেন।

মায়ের গর্ভেই সন্তানের জন্ম। জন্মের পর মাকেই শিশু সবার আগে চেনে। মায়ের বুকের হূত্স্পন্দন তার কাছে সবচে বেশি পরিচিত। মায়ের বুকের দুধে, শরীরের উষ্ণতায় সবার বেড়ে ওঠা। যাকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠা সেই ‘মা’ ডাকের মতো মধুর ডাক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। মানুষের মুখে ফোটা প্রথম শব্দটি ‘মা’। একজন মায়ের কাছেও সন্তানের মুখ থেকে ‘মা’ ডাক শোনাটি সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত। ‘মা’ শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে মায়া-মমতা ও ভালোবাসা। অনেক সময় স্নেহের আধার এই মা পরিণত হন জাতীয় প্রেরণার প্রতীকে। বাংলাদেশে শহিদ জননী জাহানারা ইমাম এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আজাদের ‘মা’ তেমনি দুই ব্যক্তিত্ব। জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনলিপি’ ও শহিদ আজাদের মাকে নিয়ে লেখা আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাস আমাদের সামনে মায়ের নতুন রূপ উন্মোচন করে।

মাকে নিয়ে লেখা হয়েছে শতসহস্র কবিতা, গান। সেই গানে ব্যক্তি মা যেমন রয়েছে তেমনি দেশকে মা সম্বোধন করেও লেখা হয়েছে গান, কবিতা। বাংলা সাহিত্যে মাকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত কয়েকটি কবিতা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মনে পড়া’, শামসুর রাহমানের ‘কখনো আমার মাকে’, হুমায়ুন আজাদের ‘আমাদের মা’, আল মাহমুদের ‘নোলক’, কালিদাসের ‘মাতৃভক্তি’ উল্লেখযোগ্য।

সব ধর্মে মায়ের অবস্থান সবার উঁচুতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’। খ্রিষ্টধর্মেও রয়েছে ‘মাদার মেরির’ বিশেষ তাত্পর্য। উপনিষদে আছে, ‘মাতৃ দেব ভব’। অর্থাত্ মা দেবী স্বরূপিনী, জীবন্ত ঈশ্বরী। তাছাড়া হিন্দুধর্মে মহাশক্তি, আদিশক্তি, রক্ষাকর্ত্রীর ভূমিকায় যাদের দেখা যায়, তারা মাতৃরূপেই পরিচিত। সেই মায়ের জন্য কি না বছরে একটি মাত্র দিন! অনেকেই এটাকে আদিখ্যেতা মনে করে বলেন, মা দিবস প্রতিদিন, প্রতিক্ষণের। এর জন্য বিশেষ দিন আবার কী দরকার? তবে এ রীতিকে বোধহয় একেবারে তাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়। প্রতীকী হলেও অন্তত একটা দিন তো মায়ের কথা, তার সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়ার কথা ভাবেন মানুষ।

যেভাবে এলো মা দিবস : বর্তমানে প্রচলিত মা দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে। গত শতাব্দীর শুরু দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। তার সে ভাবনা বাস্তবায়নের আগে ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন। বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মায়েদের জন্য উত্সর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। এখন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মা দিবস পালন করা হয়। অনেকের মতে এই দিনটির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে।

ট্যাগ: দিবস
কর্মসূচির ছবি ফেসবুকে দিয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ছাত্রদলের …
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নোবিপ্রবিতে তরুণ গবেষকদের নবীন বরণ ও ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’ অনুষ…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসকর্মীদের দেশে ফেরার পরামর্শ দিল্লির
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
এআই বিষয়ক গবেষণায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেল পাবিপ্রবি
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
খুবির কত মেরিট পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ পেলেন শিক্ষার্থীরা, আসন…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাবিতে ‘জিয়া কর্নার’ চালু করল ছাত্রদল
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9