দুই প্রধান শিক্ষকের অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল

প্রধান শিক্ষক
ভাইরাল হওয়া ছবি  © সংগৃহীত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অপর এক নারী প্রধান শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ওই উপজেলার অন্য শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা বলছেন, দুইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে আমরা সমাজে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছি। প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন এবং ওই প্রধান শিক্ষিকা দুইজনই বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তালিকায় রয়েছেন। এখন তারাই বাবুগঞ্জে শ্রেষ্ঠ প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে শিক্ষক সমাজকে কলঙ্ক করেছেন।

এই ঘটনায় উপজেলার তিনটি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে জরুরি সভা করে ওই দুই প্রধান শিক্ষককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির এক নেতার ফেসবুক আইডিতে প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন ও অপর এক প্রধান শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোক্তার হোসেনের সঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা শামীমা নার্গিস অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় মোক্তার হোসেন তার স্কুলে শামীমা নার্গিসকে ডেকে নিতেন। দরজা বন্ধ করে তারা একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটাতেন। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেতেন এবং একই সঙ্গে রাত কাটাতেন। একপর্যায়ে দুজনের প্রেম হয়। প্রধান শিক্ষিকার শর্তসাপেক্ষে মোক্তার হোসেন তার প্রথম স্ত্রীকে ২৭ সেপ্টেম্বর নোটারির মাধ্যমে তালাক দেন। ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার কাবিনে ওই প্রধান শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন।

এদিকে, বিয়ের পরও মোক্তার হোসেন প্রথম স্ত্রীর কাছে থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর অধিকার পেতে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলালের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন শিক্ষক মোক্তার হোসেন। পরে বিয়ের আগে ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন বলেন, ওই নারীর সঙ্গে আমার কর্মক্ষেত্রে সাধারণ পরিচয় ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। ভাইরাল হওয়া ছবি সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি চেপে যেতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা বলেন, মোক্তার হোসেন আমার জীবন শেষ করেছে। আপনারা তার সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে দেন।

মোক্তার হোসেনের প্রথম স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী আমাকে তালাক দিতে পারে না। ওই প্রধান শিক্ষিকা তাকে ফাঁদে ফেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে এড়িয়ে যান তিনি।

বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুর রহমান সিকদার ও যুগ্ম সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুজনেই জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ