করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশব্যাপী সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় এবারের রমজানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন বা এতে যোগদান নিষিদ্ধ করেছে সরকার। শুক্রবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেকের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করার স্বার্থে রমজান মাসে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইফতার মাহফিলের আয়োজন বা যোগদান করতে পারবেন না। এ নির্দেশনা না মানলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক আদেশে মন্ত্রণালয় জানায়, রমজান মাসে মসজিদে এশা ও তারাবিহর নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ১০ মুসল্লি ও দুই হাফেজসহ ১২ জন অংশ নিতে পারবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় এর আগে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও জামাত বিষয়ে যেসব নির্দেশনা জারি করেছিল, তাও কার্যকর থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রোজায় সারাদিনের উপোসের পর সূর্যাস্তের পর ইফতার করেন মুসলমানরা। বাংলাদেশে ইফতার শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, সামাজিক আয়োজন। সামর্থ্যবানরা দরিদ্রদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের সামাজিকতা ও রাজনীতিতেও রয়েছে ইফতারের সংস্কৃতি। ইফতারে একে অন্যকে দাওয়াত করেন। মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের জন্য ইফতার আয়োজনে রীতি রয়েছে বাংলাদেশে।
রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রায় সকল সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার মাহফিল। নানা শ্রেণীর পেশার মানুষের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন রাষ্ট্র্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের শীর্ষ রাজনীতিকরা।
করোনার বিস্তার রোধে এবার কোথাও ইফতার মাহফিল আয়োজন বরা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর প্রথম রোজার ইফতার করেন এতিম ও দরিদ্র শিশুদের সঙ্গে। এবার এ আয়োজন থাকছে না। এর মধ্যে ইফতার মাহফিল আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ধর্ম মন্ত্রণালয়।