সংবর্ধনা অনুষ্ঠান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম। ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রাপ্তির এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জন উদযাপন করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির নলেজ টাওয়ারের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাসুমা হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শফিকুল বারী, উপাচার্য, এক্সিম ব্যাংক এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী এবং ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম, ডিন, গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ, গাজীপুর এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআইইউর উপাচার্য ড. এম. আর. কবির, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবালসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানটি বিএনসিসি ক্যাডেটদের গার্ড অব অনারের মাধ্যমে বর্ণাঢ্যভাবে শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল পর্বের সূচনা করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তার অসামান্য অবদান ও অর্জন তুলে ধরা হয়।
কৃষি শিক্ষা বিস্তার, গবেষণায় নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনে তার নিরলস প্রচেষ্টা দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডিআইইউতে শিক্ষকতাকালীন কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন ড. এম. এ. রহিম। বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত কাঁঠালের জাত ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট -১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪ সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এ অর্জন টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের কৃষি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ডিআইইউর গবেষণানির্ভর উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়ন কার্যক্রমে এক অনন্য নাম। ফল চাষের প্রসার এবং উচ্চ ফলনশীল ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনে তার যুগান্তকারী অবদান দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার গবেষণার মাধ্যমে ১২৮টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় বিএইউ কুল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কৃষি গবেষণায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (২০১৪), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেলসহ (২০১৬) বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন, যা তার দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পূর্বে তিনি চ্যানেল আই ও আরটিভি আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।
ডিআইইউর উপাচার্য ড. এম. আর. কবির বলেন, ‘অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তার নিষ্ঠা, গবেষণায় অবদান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তার এ স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করবে।’
ডিআইইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল বলেন, ‘অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম দেশের কৃষি খাতের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানীদের একজন। তাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের।’
ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ ফল গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উদ্যানতত্ত্ব চর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
একাডেমিক গবেষণায় তিনি ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন; পাশাপাশি ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া কৃষি বিষয়ক ১০টি বই, ২৪টি লিফলেট, ১১টি বুকলেট ও ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।