ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। শুক্রবার সকাল ৮টায় ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের বড় খোঁচাবাড়ি বলাকা উদ্যান এলাকায় ঢাকা থেকে আসা ডিপজল পরিবহন ও দিনাজপুরগামী নিশাত পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুমিল্লাহাড়ী বলাকা উদ্যান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ডিপজল এন্টারপ্রাইজের বাসটি ঢাকা থেকে ছেড়ে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিল। আর নিশাত পরিবহনের বাসটি ঠাকুরগাঁও থেকে ছেড়ে দিনাজপুর যাচ্ছিল। খোঁচাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ গিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নিহতরা হলেন, নিশাত নামের বাসের চালক চায়না (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিপুল চন্দ্র (৩৫), আব্দুল আব্দুর রহমান (৪৫), মোস্তফা (৪৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), বীরগঞ্জ উপজেলার গলিরামের মঙ্গলী রানী (৭০), একই এলাকার মনেস্বরের স্ত্রী জবা (৩৫) ও আব্দুল মজিদ (৩৬)। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- আনোয়ার, জিনিয়া, বেলাল, কমলা, আবুল কাশেম, বিশ্বাস রায়, অখিল চন্দ্র রায়, কার্তিক, সোহেল, ফরিদুল, রেজাউল, জেবুননেছা, সাথি, মিলন, আবদুল হামিদ, আতিকুর, একতাসহ ২২ জন।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম, সিভিল সার্জন আনোয়ারুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়।